সেথ পান্ডুরাঙ্গা ব্লামবার্গ (যুক্তরাষ্ট্র), জুনায়েদ সাব্বির আহমেদ (বাংলাদেশ), ইয়ামিন খান (বাংলাদেশ) এবং ডন ডোনাডোনি (তুরস্ক) সবাই মিউজিশিয়ান। বেশ অনেকদিন ধরে তারা বিভিন্ন লাউঞ্জ ও রেস্টুরেন্টে ওপেন মাইক ও জ্যাম সেশন প্রযোজনার মাধ্যমে এক নতুন ধারা সবার মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন।

বনানীর কামাল আতার্তুক রোডের ৬০ নম্বর বাড়িটির ছাদ হয়ে উঠেছে ভিন্ন ধাঁচের সঙ্গীতের শ্রোতাদের জন্য জনপ্রিয় ঠিকানা।

এখানে শুধু গান শোনাই নয় দর্শকরাও গেয়ে ওঠেন মন খুলে। বিভিন্ন ব্যস্ত রেঁস্তোরায় প্রতিকুলতার মাঝে নিজেদের মত গান করা ঝামেলা হয়ে যাচ্ছিলো, তাই তারা অনেকদিন থেকেই নিজেদের একটা ভেন্যু তৈরি করে নেয়ার কথা ভাবছিলেন। একই ধরনের, কিন্তু মাত্রায় বিশাল চিন্তাধারায় তৈরি প্রতিষ্ঠান আনুশেহ আনাদিলের “যাত্রা” হাত বাড়িয়ে দেয় যাত্রায়। প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত যাত্রা অক্লান্ত ভাবে যাত্রা বিরতির উন্নয়নের জন্য পাশে রয়েছে।

গত বছর নভেম্বর মাসের এক তারিখে, যখন সারা দেশের বিদ্যুৎ ছিলোনা, তখন জেনারটরে মরিচা বাতি জ্বালিয়ে শুরু হয় “যাত্রা বিরতি”‘র পথচলা।

এরপর থেকে প্রতি শুক্রবার “ওপেন মাইক” এবং শনিবার “ইলেক্ট্রো এ্যাক্যুস্টিক সেশন” করে আসছে যাত্রা বিরতি। এই বছর এপ্রিল মাস থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার ফোক নাইট, শুক্রবার ওপেন মাইক এবং শনিবার ইলেক্ট্র এ্যাক্যুস্টিক সেশন শীর্ষক ইভেন্ট হচ্ছে। যাত্রার হস্তশীল্প আর শৈল্পিক ছোয়ায় বর্তমানে ছাদের প্রতিটি অংশ অলঙ্কিত করা।

৫০০টাকা প্রবেশ টিকেটের সাথে এখানে সুস্বাদু এবং নিরাপদ ফুচকা, চটপটি এবং চা পাওয়া যায়, যত খুশি তত।

যাত্রা’র সাথে মূল্যবোধ মিল রেখে যাত্রা বিরতি’ও দেশীয় সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে চায়, তাই আমাদের লোকগীতি জনপ্রীয় করতে বৃহস্পতিবার আয়োজন করা হয় ফোক ইভিনিং “ভাব”, যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধারার লোকগীতি পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

ওপেন মাইকে, যে কেউ গান গাইতে বা বাজাতে, কবিতা আবৃত্তি করতে বা কৌতুক পরিবেশনা করতে পারবে। সাধারণত ওপেন মাইক অনুষ্ঠানে একজন জনপ্রীয় শিল্পী বা ব্যান্ডও থাকে।

শনিবারে, ইলেক্ট্রো এ্যাক্যুস্টিক সেশনে সাধারণত পরীক্ষামূলক সঙ্গীত করা হয়, যার মূল আয়োজনে থাকে “স্পিকইসি” ব্যান্ড (পান্ডু, সাদ, সাব্বির, ইয়ামিন, ডন)। এই অনুষ্ঠানে মিউজিকের সাথে ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্সও থাকে।

সপ্তাহে তিনটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা ছাড়াও যাত্রা বিরতিতে বর্তমানে চারটি ওয়ার্কশপ হচ্ছে। আরমিন মুসা ও সাদ চৌধুরি স্বতন্ত্র ভাবে সপ্তাতে একটু করে মিউজিক থিয়রি ওয়ার্কশপ করাচ্ছেন। শান রহমান সপ্তাহে একদিন আধুনিক অভিনয়ের ওয়ার্কশপ করাচ্ছেন। এছাড়া নাচের ওয়ার্কশপ ও করা হয়।

মাসের প্রথম শুক্রবার দিনের বেলা যাত্রা বিরতি আয়োজন করে বাচ্চাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান, যার প্রথমটি (এপ্রিল’১৫) “স্বরে অ তে অজগর” এর বিপুল সাফল্যের পরে মে মাসের এক তারিখে বাচ্চাদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে “স্বরে আ তে আম”। এখানে বাচ্চারা টিশার্ট পেইন্টিং, পাপেট শো, চিত্রাঙ্কন, কাদামাটি দিয়ে খেলনা তৈরি সহ বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রণ করবে।

যাত্রা বিরতিতে অচিরেই নিজস্ব রেস্টুরেন্ট শুরু হচ্ছে, যেখানে অর্গানিক ও আয়ুর্বেদিক খাবার পরিবেশন করা হবে বলেও জানান এই উদ্যোক্তারা।

সপ্তাহের যে কোনো দিন পছন্দের ইভেন্টে আপনিও হতে পারেন যাত্রা বিরতির কিছুক্ষণের অতিথি।

print