প্রতিবেদক : জননন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের নামে পুরস্কার প্রবর্তন করল এক্সিম ব্যাংক ও পাক্ষিক পত্রিকা অন্যদিন। বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনারকক্ষে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শনিবার এই পুরস্কার ঘোষণা করেন পাক্ষিক ‘অন্যদিন’ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস প্রফেসর আনিসুজ্জামান। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ হায়দায় আলী মিয়া ও অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের মধ্যে পুরস্কার সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে। হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে এ ধরনের পুরস্কার প্রবর্তন করায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানদ্বয়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই রম্যলেখক আহসান হাবীব ও হুমায়ূনপত্নী মেহের আফরোজ শাওন।

বাংলা সাহিত্যের এই জননন্দিত গুণী লেখককে নিয়ে পুরস্কার প্রবর্তন করার উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী, কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন, নাসরীন জাহান, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, প্রকাশক ওসমান গণিসহ আরও অনেকে।

প্রধান অতিথি আনিসুজ্জামান বলেন, হুমায়ূন আহমেদ নামাঙ্কিত এই পুরস্কার নিঃসন্দেহে হুমায়ূন আহমেদকেই শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ হল। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই উদ্যোগ লেখকদের জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা ও পরবর্তী প্রজন্ম তাকে মনে রাখব। আশা করব, হুমায়ূনের নামের মর্যাদা রক্ষা করেই এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

মাজহারুল ইসলাম বলেন, কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ জীবিতকালে দেশের জন্য তার লেখনীর মাধ্যমে অনেক দিয়ে গেছেন। বাংলার পাঠক সৃষ্টিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু সৃষ্টিশীল কর্ম এখনো রয়ে গেছে। যুগ যুগ ধরে তার স্মৃতিময় কর্ম যেন সমুজ্জ্বল হয়ে থাকে সে জন্য এই পুরস্কারের প্রবর্তন করা হল। এখন থেকে প্রতি বছর একজন নবীন লেখকসহ দু’জনকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। শিগগিরই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন রম্যলেখক আহসান হাবীব। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের নামে এই পুরস্কার প্রবর্তন করে সত্যিকারার্থে হুমায়ূন আহমেদকে আরও একবার সম্মানিত করা হল।

হুমায়ূনপত্নী বলেন, যখন আমি জানলাম হুমায়ূন আহমেদের সমগ্র কথাশিল্পের ওপর ভিত্তি করে একটি পুরস্কার প্রবর্তন করতে যাচ্ছে এক্সিম ব্যাংক ও অন্যদিন, তখন আর চোখে পানি ধরে রাখতে পারিনি। তরুণ লেখকদের উৎসাহ যোগাতে কয়েক বছর ধরে সমকাল এ ধরনের একটি পুরস্কার দিয়ে আসছে। নতুন এই পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানও এ ধরনের পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

পুরস্কারের বিষয় ‘কথাসাহিত্য’। পূর্ববতী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত শুধু কথাশিল্পের জন্য অথবা কথাসাহিত্যে সার্বিক অবদানের জন্য প্রথম পুরস্কার দেওয়া হবে। এর অর্থমূল্য ৫ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে থাকবে একটি সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উত্তরীয়। পূর্ববতী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত কথাশিল্পের জন্য অনূর্ধ্ব ৩৫ বছর বয়স্ক লেখককে নবীন সাহিত্য শ্রেণীতে আরেকটি পুরস্কার দেওয়া হবে। এর অর্থমূল্য এক লাখ টাকা। সেই সঙ্গে থাকবে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উত্তরীয়। শুধু বাংলাদেশের জীবিত নাগরিকই এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবেন। মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়া হবে না। তবে পুরস্কার সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর যদি দুর্ভাগ্যক্রমে মনোনীত লেখক বা সাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে এই বিধি তার সম্পর্কে প্রযোজ্য হবে। তিন সদস্যের একটি বাছাই কমিটি প্রথম পুরস্কারের জন্য লেখক ও বইয়ের নাম প্রাথমিকভাবে বাছাই করবে। দ্বিতীয় পুরস্কারের জন্য জমা পড়া বইগুলোও প্রাথমিক মূল্যায়ন করবে এই কমিটি। পরে ৫ সদস্যের বিচারকমণ্ডলীর একজন সভাপতি থাকবেন। বিচারকমণ্ডলীই পুরস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বই জমা প্রদানের নিয়মাবলী : নবীন সাহিত্য শ্রেণীতে পুরস্কারের জন্য প্রকাশক, লেখক কিংবা শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৫ কপি বই আহ্বান করা হবে। সেই সঙ্গে লেখকের বয়সের সনদও (পাসপোর্ট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি) জমা দিতে হবে।

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনকে সামনে রেখে প্রতি বছর এই পুরস্কার প্রদান করা হবে। চলতি বছর থেকেই এই পুরস্কার চালু হবে।

print