স্টাফ রিপোর্টার : গত ২১ মে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত “ক্ষমতাসীনদের হামলা মামলায় জিম্মি পিরোজপুরের সংবাদ কর্মীরা” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে অসংখ্য ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য দেয়ার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের সাথে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পিরোজপুরের দৈনিক গ্রামের সমাজ পত্রিকার উদ্যোগে গ্রামের সমাজ কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় পিরোজপুর জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার অধিকাংশ সাংবাদিক  উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা যুগান্তর পত্রিকার বরিশালের ব্যুরো চীফ আকতার ফারুক শাহিনের লেখা সংবাদটিকে প্রত্যাখ্যান করে লিখিতভাবে নিন্দা জানান। এ মতবিনিময় সভায় আলোচনা হয় ফেইসবুক ষ্টাটাস নিয়ে আকতার ফারুক শাহিন ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে এক সংবাদ কর্মীর উক্তি এবং তাকে মারার হুমকি দেয়ার বিষয় নিয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তার কোন সত্যতা মেলেনি। যে সকল সাংবাদিকদের নাম উল্লেখ করে হয়রানির অভিযোগ এনেছে তাদের সাথে কোন ধরনের কথা না বলেই তিনি সংবাদ প্রকাশ করেছেন। একাধিক সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শফিউল হক মিঠু এবং জহিরুল হক টিটু সকল সরকারের আমলে দুর্নীতি এবং অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাপক সম্পদের মালিক হওয়া, স্থানীয় পত্রিকার মাধ্যমে অপ সাংবাদিক তৈরি করা সহ চাঁদাবাজী নিরীহ মানুষকে হয়রানির সাথে জড়িত থাকা সত্ত্বেও আকতার ফারুক শাহিন তার সংবাদে এদেরকে সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এ সাংবাদিক নামধারী জহিরুল হক টিটু একটি স্থানীয় পত্রিকায় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জহিরুল হক টিটু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন এবং নির্বাচনী হলফনামায় সে (টিটু) শিক্ষাগত যোগ্যতার স্থানে স্ব-শিক্ষিত উল্লেখ করেন। জহিরুল হক টিটু শহরের বলাকা ক্লাব সড়কে বহুতল (৫ তলা) বিশিষ্ট ভবন নির্মান করেন। এখানে বিভিন্ন শ্রেণীর সাংবাদিকদের মনে প্রশ্ন উঠেছে যে জহিরুল হক টিটু যদি ক্ষতিগ্রস্থ হত তাহলে তার এমন বহুতল ভবন নির্মান ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করা কি সম্ভব হত? অপর দিকে সফিউল হক মিঠু বিগত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে হামলার শিকার হয়। এছাড়া সংবাদে মঠবাড়িয়ায় কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিকদের মামলার শিকার হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মঠবাড়িয়ার কয়েকজন সাংবাদিক গ্রামের সমাজকে বলেন, মঠবাড়িয়ায় কর্মরত মামলার শিকার এসব সাংবাদিকদের দলীয় পরিচয় রয়েছে। তারা কোন রাজনৈতিক নেতা দ্বারা প্রভাবিত নয়। তারা তাদের দলীয় কর্মকান্ডের জন্য মামলার শিকার হয়েছে। এখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য তারা মামলার শিকার হয়নি। প্রেস ক্লাব রাজনীতি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিভক্ত সাংবাদিকরা নানা সময় নিজেদের স্বার্থে রাজনীতিবিদের ব্যবহার করে তাদের বিপদে ফেলেছেন। এ সময় সাংবাদিকরা স্বীকার করেন উল্লেখিত সংবাদে বেশীর ভাগ তথ্যে হের ফের এবং গড়মিল রয়েছে। এ সময় সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিক এবং রাজনীতিবিদ কেউ কারো শত্রু নয়। পিরোজপুরের রাজনীতিবিদরা কখনো সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হস্তক্ষেপ করেনি। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কোন নেতা দ্বারা পিরোজপুরের সাংবাদিকরা কোন ভাবে প্রভাবিত হয়নি। এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুনিরুজ্জামান নাসিম আলী বলেন, তথ্য ও ভিত্তিহীন যে সব উপাত্ত সংবাদটিতে প্রকাশিত হয়েছে আমরা এর নিন্দা জানাই। তার নিন্দা প্রস্তাবে উপস্থিত সকল সাংবাদিকরা স্বাক্ষর করেন। পিরোজপুর টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিরিনা আফরোজ বলেন, বরিশাল থেকে স্থানীয় প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ না করেই যারা সংবাদ প্রকাশ করেন তারা সংবাদের নিয়ম কানুন না মেনে স্থানীয় প্রতিনিধিকে অপমান করেন এবং বিপদে ফেলেন। একজন স্থানীয় প্রতিনিধির সাথে এটা জঘন্য অমানবিক আচরন। জেলা বাসসের প্রতিনিধি গৌতম নারায়ন রায় চৌধুরী বলেন, কিছু অপসাংবাদিকও আছে তাদের এখন সচেতন হওয়ার দিন। তাদেরকে আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। হুটহাট চাঁদাবাজি করে সাংবাদিকতার অপব্যবহার করে কেউ মামলা খেলে এ দায় তার নিজের। তবে প্রকৃত সাংবাদিকদের পাশে আমরা আছি। এ সময় নির্যাতিত কিছু সাংবাদিক তাদের অভিযোগও তুলে ধরেন। তারা বলেন আমাদের ওপর অনেক সময় হামলা হয়েছে। এতে স্থানীয় সাংসদ জড়িত আছে এ কথা আমরা কোথাও বলিনি। সব শেষে বক্তব্য রাখেন সভার সভাপতি ও দৈনিক গ্রামের সমাজ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব মশিউর রহমান মহারাজ। তিনি বলেন, সাংবাদিক আকতার ফারুক শাহিন পিরোজপুর জেলা নিয়ে যুগান্তর পত্রিকায় আমার পরিবারকে জড়িয়ে একাধিকবার মিথ্যা সংবাদ  প্রকাশ করেছে। আমার মনে হয় এর পেছনে রাজনৈতিকভাবে একটি হীন চক্রান্ত কাজ করছে। এর আগেও সে জেলা বাস মালিক সমিতি নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছিল। আমার মৃত বাবার নামেও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে। উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়েই সে এ ধরনের কাজ করছে। সাংবাদিক সমাজের কাছেই আমার প্রশ্ন এই আচরণ একটি পরিবারকে প্রতিনিয়ত কি উত্যক্ত করার সামিল নয়? পিরোজপুরের মানুষের ভালো মন্দ সুখ দুঃখের সাথে আমার পরিবারের প্রত্যেকেই জড়িয়ে আছে। কেউ ভুলের উর্ধে নয়। সামান্য ভুলত্রুটি ধরা পড়লে স্থানীয় সংবাদকর্মীরাই প্রচার করবেন। বার বার সাংবাদিকতার অপব্যহার করে একটি লোক (শাহিন) রাজনৈতিভাবে আমার পরিবারকে হেনস্থা করে যাবে এর প্রতিকার হওয়া দরকার। দৈনিক গ্রামের সমাজের নির্বাহী সম্পাদক কেএম মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লবের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, দৈনিক সংবাদের জেলা প্রতিনিধি এ কে আজাদ, দৈনিক ভোরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি ও জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কেএম মনিরুল আলম সেলিম, দেশ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফিরোজ আহম্মেদ, সকালের খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি হাসান মামুন, ডেইলী ষ্টারের জেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান, গ্রামের সমাজের স্টাফ রিপোর্টার অভিজিৎ রাহুল বেপারী প্রমুখ।

print