শিরিনা আফরোজ : পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নে ধর্ষণের পর ৭ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে অবৈধ গর্ভপাত করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, দুইমাস আগে শিশুটিকে ধর্ষণের পর সন্তান সম্ভাবা হয়ে পরলে, গত বুধবার গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর অসম্ভব রক্তক্ষরণে অবস্থা বেগতিক হলে হাসপতালে ভর্তি করার পর ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। ৩০ মে শনিবার দুপুরে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেন। নথি সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সন্ধ্যা রানী মেয়েটিকে তার মা বাবার কাছ থেকে পড়াশুনা করানোর কথা বলে নিয়ে আসে। দু:সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তারা এ প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যা তার মেয়েকে খারাপ কাজে বাধ্য করে। মেয়ে সন্তান সম্ভাবা হয়ে পরলে তাকে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ায়। ওষুধ খাওয়ানোর পর মেয়েটির রক্তক্ষরণ হতে থাকে। কোন ক্রমে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় প্রথমে তাকে নাজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে অবস্থার অবনতি হলে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্্রীরামকাঠি ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা রুপাই মজুমদার বলেন, সন্ধ্যার সাথে ধর্ষক নিজাম উদ্দিন সরদারের দীর্ঘ দিনের ওঠা বসা ও সখ্যতা রয়েছে। সন্ধ্যাই টাকা পয়সার লোভে মেয়েটিকে পঞ্চাশ বছরের ওই লোকের হাতে তুলে দিয়েছে। পিরোজপুর সদর হাসপাতালের ৬ নং বেডে মেয়েটি কেবল গুমরে গুমরে কাঁদছে। লজ্জায় ঘৃণায় যেন মুছড়ে পড়ছে। এ প্রতিবেদককে মেয়েটি জানায় লোকটি আমার বাবার বয়সী। সে জোর করে আমাকে খারাপ কাজে বাধ্য করে। আমি যখন অসুস্থ (গর্ভবতী) হয়ে পরি তখন সে আমার দুই ভাইকে জবাই করে মারার হুমকি দেয়। আমাকে বলে তোর সাথে যা হয়েছে কাউকে বললে পরিবার সহ তোকেও মেরে ফেলা হবে। হঠাৎ করেই এই সময় হাসপাতালে উপস্থিত হন সন্ধ্যা রাণী। তাকে দেখে মেয়েটি ভয়ে কুঁকড়ে ওঠে এবং আর কিছু বলতে চায় না। এমনকি এ সময় এ প্রতিবেদককেও তিনি তেড়ে আসেন। মেয়েটির মা সুমিত্রা মৈত্র বলেন, ওনার (সন্ধ্যার) ভয়ে আমরা কিছুই করতে পারছি না। নিজাম উদ্দিন সন্ত্রাসী তিনি আমাদের মেরেও ফেলতে পারেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ননী গোপাল রায় বলেন, মেয়েটির চিকিৎসা চলছে। রক্ত দিতে হবে। তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে নাজিরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে নিজাম উদ্দিন সরদার এবং সন্ধ্যা রাণী ও তার ছেলেকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনা স্থলে তদন্তের জন্য কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমানিত হলে মেয়েটি সম্পূর্ণ আইনি সহায়তা পাবে।

print