দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা এখন বিএনপি-জামায়াত জোট এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রিন্সিপাল শাহাজান ফাউন্ডেশন আয়োজিত শেকড়ের সন্ধানে গ্রন্থের প্রকাশনা এবং গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতি যাদের মায়া নেই, যারা জাতির ইতিহাস জানেন না, যাদের বিবেক নেই, তারা দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে ঢেলে সাজালে দলটি জনগণের কিছুটা আস্থা ফিরে পেতে পারে এমন মন্তব্য করে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির মধ্যেই গুঞ্জন উঠেছে খালেদা জিয়া ব্যর্থ নেত্রী।

বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি যদি আপনার স্বামীর গড়া দল বিএনপির অস্তিত্ব রক্ষা করতে চান। তাহলে স্বেচ্ছায় এই দল থেকে বিদায় নিয়ে দলটির অস্তিত্ব রক্ষা করুন।

‘বিএনপি জামায়াত না ছাড়লে রাজনীতিতে উঠে আসার সুযোগ নেই।’ বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর এমন বক্তব্যেকে সাধুবাদ জানিয়ে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে আমি ধন্যবাদ দেই। এই লোকটির মধ্যে কৃতজ্ঞতা বোধ আছে। কারণ জিয়াউর রহমান যখন দল গঠন করেন তিনি প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলেন, দীর্ঘদিন এই দলের সঙ্গে ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি ঊনাকে রাষ্ট্রপতি বানান। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ঊনাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করানো হয়। ঊনার বিদায় স্বাভাবিক ছিলো না। এখনও তিনি বিএনপির মঙ্গল চান।’

তিনি বলেন, এই কথা আমরা প্রথম থেকেই বলছি। শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে বলেছিলেন, আপনি নিজে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন, আর যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের পক্ষ হয়ে মাঠে নামেন। এটা বাংলার মানুষ ভালো মনে করে না। আপনি এটা থেকে বেরিয়ে আসুন। খালেদা জিয়া বের হন নাই।

বিএনপি শেকড় নাই বলেই আজকে জামায়াতের পেটে ঢুকেছে এমন মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, জন্ম যদি ঠিক থাকতো তাহলে জামায়াতের পেটে ঢুকে যাওয়া সম্ভব ছিলো না। শেকড় নেই বলেই আজকে তারা ক্রমান্বয়ে মুসলিম লীগে পরিণত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শেকড় মজবুত বলেই এত ঝড়-ঝাপ্টা হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ টিকে আছে। বিশ্বের মোড়লরা আমাদের বিরুদ্ধে। মোড়লরা অনেকেই অনেক কথা বলেন। অনেক প্রেসক্রিপশন দেন। সেই প্রেসক্রিপশন শেখ হাসিনা শুনলে দেশ এগিয়ে যেত না। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করার পরও নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু করতে পারতাম না।

সংগঠনের সভাপতি শাহজান আলম সাজুর সভাপতিত্বে সভায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিশিষ্ট অভিনেতা ড. ইনামুল হক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

print