ঠিক যেন রুপকথার গল্প। এক ঘুঁটেকুড়ানিকে পছন্দ হল রাজকুমারের, তারপর বিয়ে। ব্যস, ঘুঁটেকুড়ানি হয়ে গেল রানী। বাস্তবে অনেকটা এমনটাই হতে যাচ্ছে সুইডেনে। সে দেশের যুবরাজ কার্ল ফিলিপ বিয়ে করছেন প্রেমিকা সোফিয়া হেলকুভিস্টকে। রাজকন্যা নন সোফিয়া। তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবারের মেয়েও নন তিনি। পরিচয় বলতে একসময় ছোটোখাটো মডেলিং করতেন। এই অতি সাধারণ মেয়েই কীনা হতে যাচ্ছেন সুইডেনের রাণী। আজ শনিবার স্টকহোমে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে রাজকুমার ফিলিপের গলায় মালা দিতে যাচ্ছেন তিনি। সুইডেনে রাজপরিবারের জনপ্রিয়তা কমছে। তা সত্ত্বেও এই জুটির বিয়ে উপলক্ষে স্টকহোমের রাজপথে লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কনে সোফিয়ার বয়স ৩০। তিনি ছিলেন মডেল। পরে যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক হন। এখন মানবসেবা করছেন। যুবরাজ ফিলিপের বয়স ৩৬। সুইডেনের সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারী তিনি।

২০১০ সালে সুইডেনের একটি রেস্তোরাঁয় দুজনের প্রথম দেখা। এরপর ভালোলাগা এবং প্রণয়। পরে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। রাজকুমারের সঙ্গে অভিসারের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সোফিয়ার অতীত নিয়ে নানা মুখরোচক কাহিনি প্রকাশ করেছে সুইডেনের পত্রপত্রিকাগুলো। এক রিয়ালিটি শোয়ে তাকে প্রায় উলঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে বলেও খবর বেরিয়েছিল। কিন্তু এসব সমালোচনা টলাতে পারেনি রাজকুমার ফিলিপকে। কথায় আছে না,‘পীরিতে মজিলে মন, কীবা চাড়াল কীবা ডোম’। তা ছাড়া নিজের অতীত নিয়ে মোটেও লজ্জিত নন সোফিয়া। তিনি বলেন,‘আমার এসবে অনুশোচনা নেই। এসব অভিজ্ঞতা মিলিয়েই আজকের আমি।’

বিয়ের পর তার জনকল্যান কাজে সহায়তা করবে রাজপ্রাসাদ। দক্ষিণ আফ্রিকার সুবিধা বঞ্ছিত শিশুদের জন্য একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়তে রাজকুমার তাকে সহায়তা করবে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

print