নিউজ ডেক্স : ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা গঠনের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে তথ্য ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার বলার স্বাধীনতা ও সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ৩২টি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি বেতারের অনুমোদনও আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ই দেওয়া হয়েছে। আমরাই দিলাম বেসরকারি টেলিভিশন। সেখানে বসে আমাদের সমালোচনাটাই সবচেয়ে বেশি। এ সুযোগটা আওয়ামীলীগ সরকার করে দিয়েছে। সেটা যেন মনে রাখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এজন্য মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আর এতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া মাদকের বিষয়েও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শুধু আইনী ব্যবস্থা নিয়ে মাদকের কুফল থেকে মানুষকে দূরে রাখা সম্ভব নয়, এর সঙ্গে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী। সচেতনা সৃষ্টি করতে না পারলে এর সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না। দেশের সব মানুষের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১২ কোটি ৬৮ লাখ সিম আছে। এ সুযোগটা কে দিয়েছে? আওয়ামীলীগ সরকার করে দিয়েছে। ডিজিটাল সেন্টার আমরা চেয়েছি। সমালোচনা করুন তবে যেন বিকৃত না করে, মানুষকে বিভ্রান্ত না করে। যেটুকু ভালো করেছি, সেটা বলারও যেন সাহস থাকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেলিভিশন কিনে শুধু ব্যবসা করলে চলবে না। বাঙালি হিসেবে আমাদের চিন্তা, চেতনা, সংস্কৃতি যেন আরো বিকশিত হয়, সে বিষয়গুলোর দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। এ সময় গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটসহ সব সংস্থাকে পারদর্শী হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলে জানান শেখ হাসিনা। সাংবাদিকদের জন্য অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর বাংলাদেশের জনগণ বিকৃত ইতিহাস দেখেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ, সে আলোকেই এখানে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়। বাঙালি জাতি আজ যা কিছু পেয়েছে তার পেছনে বঙ্গবন্ধুর অবদান আছে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এক সময় জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল। আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদকে কঠোর হস্তে দমন করেছি। আজকে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। যেহেতু বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় ছিল। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এটা এমনি এমনি হয়নি। আমাদের সুষ্ঠু নীতিমালা গ্রহণের মধ্য দিয়ে তা হয়েছে।

print