নিউজ ডেক্স : বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনকে একীভূত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন সম্পর্কিত আইন-২০১৫’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, এই আইন কার্যকর হলে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন দুটিই বিলুপ্ত হয়ে ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিগ) ’ প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এই নতুন সংস্থা দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরকারি খাতের শিল্প-কারখানার অব্যবহৃত জমি দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে সহায়তা করবে। এই খসড়া আইনে বলা হয়েছে যে, বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নবগঠিত সংস্থায় বদলি হবেন। এ ছাড়া বিলুপ্ত সংস্থা দুটির সব সম্পদ ও দায়দেনা বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাভুক্ত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের কাঠামো সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এবং ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে  অর্থমন্ত্রীর সমন্বয়ে সংস্থাটির ১৭ সদস্যের এক পরিচালনা পরিষদ থাকবে এবং বানিজ্য, শিল্প, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিবর্গ এর সদস্য থাকবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিডার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং একই সঙ্গে পরিচালনা পরিষদের একজন সদস্য। এর নির্বাহী কমিটিতে নির্বাহী চেয়ারম্যান ছাড়াও সরকার কর্তৃক নিয়োজিত সর্বোচ্চ ৬ জন সদস্য থাকবে। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি দেশে বিনিয়োগের জন্য বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন ও বিদেশী বাণিজ্য লিয়াজোঁ শাখা কার্যালয়ের নিবন্ধন পরিচালনা করবে। তবে বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বেসরকারি ইপিজেড, বিএসসিআইসি ও হাই-টেক পার্কের আওতাধীন বিনিয়োগ প্রস্তাব বিডার এখতিয়ারের বাইরে থাকবে। সচিব বলেন, সরকারি খাতের জমি ও শিল্প আরো দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এসব সম্পদ বিক্রির সময় যথাযথ মূল্য না পাওয়া ও অন্যান্য কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি বলেন, বিডা আমদানি বন্দোবস্ত  ও এনওসি ইস্যু নিষ্পত্তি এবং গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নির্ধারিত কোন এলাকা শিল্পাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমি অধিগ্রহণে সহায়তা করবে। সংস্থাটি জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে অব্যবহৃত জমি ও কাঠামোর তালিকা করে এর ব্যবহারের নীতিমালা তৈরি, প্লট বরাদ্দ ও হস্তান্তরের গাইডলাইন প্রণয়ন এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা আরো কার্যকর করতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ইনস্যুরিং কমিটি গঠন করবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৮৯ সালের সংশ্লিষ্ট আইনে পরিচালিত বিনিয়োগ বোর্ডের বর্তমান জনবল হচ্ছে ২৯৩ জন। অপরদিকে ১৯৯৩ সালের এক আইনে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন বোর্ড হিসেবে গঠিত হয়। পরে ২০০০ সালের প্রাইভেটাইজেশন আইনে এ বোর্ড কমিশনে রূপান্তরিত হয়। সংস্থাটিতে এখন ৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তবে এ কমিশনের কর্মকান্ড সন্তোষজনক নয়। কমিশন প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ৫৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে দিয়েছে আবেং ২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অফলোড করেছে। সংস্থাটি বিগত ৪ বছরে মাত্র একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারি এবং একটি শেয়ার অফলোড করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিডা হবে বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়েও উন্নত সংস্থা। এর জনবল মোটামুটি ৩৬৩ জন হতে পারে। বৈঠকে ১৯৯৮ সালের উপজেলা পরিষদ আইনের আওতায় উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত তহবিল হস্তান্তর সম্পর্কিত প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। জনগণের ক্ষমতায়নে সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা অধিকতর নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। তিনি বলেন, এতে উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিত বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া মন্ত্রিসভায় ৪ জুন প্যারিসে ডব্লিউটিও বৈঠকের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশের বাণিজ্য মন্ত্রীদের অনানুষ্ঠানিক বেঠকের বিষয় অবহিত করা হয়। মন্ত্রীবর্গ, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সচিবগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

print