নাজিরপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের নাজিরপুরে পঞ্চম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে শিকল দিয়ে বেধে ৩ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া উপজেলার মাটিভাংগা ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেনীর এক ছাত্রীকে জোড় করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ মো: নাছির উদ্দিন মল্লিক জানান, এ ২টি ঘটনার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল ছাত্রীর পিতা ও বুধবার রাতে ধর্ষিতা কলেজ ছাত্রী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ও অপহরণ  আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ছলেমান শেখকে আটক করা হয়েছে এবং বাকীদের আটকের চেষ্টা চলছে। অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর হোগলাবুনিয়া গ্রামের এক হত দরিদ্রের কন্যা এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম  শ্রেনীর এক ছাত্রীকে   নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ৩ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষিতা ওই স্কুল ছাত্রী জানায়, গত রবিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে স্থানীয় সোনামুদ্দিন শেখের পুত্র ৩ সন্তানের জনক আছাদ শেখ ও তার সহযোগী সলেমান শেখ তাদের বাড়িতে ডুকে তার বাবা-মা কেউ বাড়িতে না থাকার সুযোগে ওই ২ জনে তার (স্কুল ছাত্রীর) মুখ চেপে ধরে নিয়ে যায়। পরে অজ্ঞাত এক বাড়িতে নিয়ে শিকল দিয়ে বেধে ৩  দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার বাবা জানান, ৩ দিন পরে গত মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া’র একটি বাড়ির থেকে তাকে  উদ্ধার করে ওই দিন সন্ধ্যায় নিয়ে আসা হয়। এ ব্যাপারে থানা পুলিশের অফিসার ইন-চার্জ  জানান, ঘটনাটি তিনি অন্যের মুখে শুনে অসহায় ভিকটিম ও তার বাবাকে থানায় ডেকে এনে  বৃহস্পতিবার  সকালে  ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষিতার  পিতাকে  বাদী করে মামলা দায়ের  করা হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের অভিযোগে থানায় দায়ের করা অন্য একটি অভিযোগ থেকে জানা গেছে,  উপজেলার মাটিভাংগা ডিগ্রী কলেজে’র একাদশ শ্রেনীর এক ছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের  চর ডাকাতিয়া গ্রামের ওই ছাত্রী কলেজে যাওয়ার পথে জোড় করে  তুলে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগে ধর্ষিতা ওই  ছাত্রী বাদী হয়ে ধর্ষক ও ধর্ষকের সহযোগী অজ্ঞাত ১ জন সহ ২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছ। মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব বানিয়ারী গ্রামের ফজর আলী হাওলাদারের পুত্র মো: কামরুল ইসলাম হাওলাদার ওই  ছাত্রী কলেজে যাওয়া আসার সময় বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কিন্তু গত ১৯ আগষ্ট ওই  ছাত্রী  বাঘাজোড়া থেকে কলেজে যাওয়ার সময় ধর্ষক ও তার এক সহোযোগী জোড় করে মোটর সাইকেলে করে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে আটকে রেখ ধর্ষন করে পরের দিন রাত আনুমানিক  ৮টার দিকে মোটর সাইকেলে করে ঢাকা- পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বাঘাজোড়া  নামক স্থানে’র একটি জলাশয়ে এনে তাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ধর্ষক ও তার সহযোগী পালিয়ে যায়।  ধর্ষিতা জানায়,  স্থানীয় ইউপি মাটিভাংগা চেয়ারম্যান  মধ্যস্ততায়  সে  বিচারের অপেক্ষা থাকলেও কোন বিচার না পেয়ে মামলা দায়ের করে। তবে এ ব্যাপারে ওই ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফয়সাল আলম রঞ্জু জানান, তিনি এমন কিছুই জানেন না এবং তার কাছে কেউই এমন বিচারের জন্য আসে নি।

print