মহাবিশ্বের সবচাইতে বড় রহস্য, সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক বিস্ময় হচ্ছে এই ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর। এটা নিয়ে বিস্ময়ের কোন শেষ নেই, আগ্রহের সীমা নেই। সূর্য থেকে প্রায় প্রায় ৩ গুন ভরের নক্ষত্র সমূহ নিজস্ব কক্ষপথ থেকে অন্তিম পর্যায়ে ছোট একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে স্থানচ্যুত হয়ে মহাবিশ্বের কেন্দ্রের কাছকাছি কোন স্থানে পতিত হয়ে একটি গহ্বরে রূপ নেয়, তাকেই ব্লাকহোল বলে। ব্লাকহোল বা কৃষ্ণ গহ্বরে কোন আলো খুঁজে পাওয়া যায় না। এখানে ঘনত্ব এত বেশি যে কোন আলো পরলে তাও শোষিত হয়ে যায়।

ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর ছোট বা বড় হতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ব্ল্যাকহোল ঠিক এক পরমাণু সমান ছোটো হতে পারে। এই কৃষ্ণ গহ্বর খুব ছোট কিন্তু এর উপর একটি বৃহৎ পর্বতের ভর আছে। বেশিরভাগ ব্যাপারই একটি বস্তু বা ‘বস্তু’ কেন্দ্রিক। পৃথিবীর ছায়া পথে এমন অনেক নক্ষত্র আছে যার ভর ব্ল্যাক হলের ভরের চাইতে অনেক কম। পৃথিবীর ছায়াপথকে মিল্কিওয়ে বলা হয়।

ব্ল্যাক হোল এর জন্ম:
বিজ্ঞানীরা মনে করেন যখন মহাবিশ্ব সৃষ্টি শুরু হয় তখন একটি ক্ষুদ্রতম কনা থেকে কৃষ্ণ গহ্বর গঠিত হয়। যখন কোনো নক্ষত্র তার জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে তখন নক্ষত্র গুলো সংকুচিত হতে থাকে। সাধারনত গ্যালাক্সি গুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে সুপারনোভা বিস্ফোরনের মাধ্যমে ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে।

আকর্ষণ করার এলাকা:
ব্ল্যাক হোল থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই ব্ল্যাক হোলটির মহাকর্ষীয় আকর্ষণ দ্বারা তাকে পিছনে নিয়ে আসে। যেহেতু আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না তাহলে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ত কিভাবে দেখা যায় বা বুঝা যায়? মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময়েই মহাকাশে প্রচুর তারকারাশি দেখা যায় যারা একটি বিশেষ বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে অথবা সর্পিলাকার গ্যাসীয় বস্তু দেখা যায় যা কোন বিন্দুকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছে। এই বিশেষ বিন্দুগুলোই হল ব্ল্যাক হোল যেগুলোকে দেখা যাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে তারকারাশি বা গ্যাসীয় বস্তুগুলোর অবস্থান আর তাদের গতি-প্রকৃতির মাধ্যমে।-সূত্র: নাসা।

print