প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার সব ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে চায়। আমরা সকল ধর্মের অধিকার সংবিধানে নিশ্চিত করেছি। কোনো ধর্মই মারামারি, হানাহানি সমর্থন করে না। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এই অধিকার বর্তমান সরকার নিশ্চিত করেছে। দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। এ কারণে সবাই নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারছে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজামণ্ডপে শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গা পূজা উপলক্ষে প্রথমে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, পরে রামকৃষ্ণ মিশন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেন শিশুরা। রামকৃষ্ণ মিশনে কমিটির নেতৃবৃন্দ।

ঢাকেশ্বরীতে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা এ মাটিতে জন্ম নিয়েছেন। আপনারা এ মাটির সন্তান। আপনারা এ মাটিতে বসবাস করেন। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতা এনেছেন। সে রকম আত্মবিশ্বাস নিয়েই বসবাস করবেন। বর্তমান সরকার সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করেছে। মানবতার জয় হোক এটাই আমাদের কামনা।

রামকৃষ্ণ মিশন মঠ ও মিশনে পুজা ম-পে শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমি এখানে আসতে পেরে খুশি। আমি প্রতিবছরই আসি। বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের সমানভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আপনাদের পূজা সুন্দর ও সফলভাবে পালন হোক সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে যত হিন্দুধর্মের লোকজন আছেন, সবাই সুন্দরভাবে নির্বিঘেœ ধর্ম পালন করবে, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে অনুরোধ করবো, সকলেই সহযোগীতা করুন। সার্বজনিন পুজা যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারে সে জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। স্বাধীনতার পরপরই তিনি আমাদের একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। সেখানে সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে সকল ধর্মের সমান অধিকার।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধাণ থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা তুলে দেয়া হয়েছিল। অথচ ধর্ম নিরপেক্ষতা মানেই ধর্মহীনতা ছিল না। বরং সকল মানুষের ধর্ম পালনের সমান অধিকার দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বাংলার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সালে সংবিধান সংশোধন করে সকল মানুষের যে সব ধর্মের মানুষের সমান স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করেছি। আমাদের দেশের নৃ-জাতি গোষ্ঠীরও অধিকার সংবিধানে নিশ্চিত করেছি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেলেন। অথচ আমাদের দুভাগ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সহপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমরা দুটি বোন বিদেশে ছিলাম বলেই বেচে গেছি। কিন্তু এই হত্যাকান্ড শুধু মাত্র একটি পরিবারকে হত্যা ছিল না। একটি চেতনা ও আদর্শকে হত্যা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার যে চেতনা লক্ষ্য ছিল, সেটাকে হত্যা করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এগুলোর হাত থেকে মানুষ মুক্তি পাক, শান্তিতে বসবাস করুক সেটাই আমি চাই। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি শান্তিপূর্ন উন্নত ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। এটা জাতির পিতাই চেয়েছিলেন। আমাদেরও লক্ষ্য তাই। আজকে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। ছোট্র একটি ভুখন্ডে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। বাসস্থানের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষিত ও প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন জাতি গড়ে তোলা সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই-বাংলাদেশে সকল মানুষ সুখে থাক, সুন্দরভাবে বসাবস করুক। মানবতার জয় হোক, এটাই আমাদের কামনা।

ঢাকেশ্বরীতে ঢাকা মহানগর সার্বজনিন পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জেএল ভৌমিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কাজল দেবনাথ, মহানগর উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত দেবনাথ। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা এমএ আজিজ, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী ও অপু উকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রামকৃষ্ণ মিশনে বক্তব্য রাখেন, রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ রুবেশানন্দ। মিশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট প্রদান করেন গুরু মহারাজ স্বামী অমেয়ানন্দ। এছাড়াও রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল ও পুজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মুকুল চৌধুরী, ডা. দিলীপ কুমার, ওয়ার্ড কাউন্সিল আবু হানেফ মান্নাফী, ময়নুল হক মনজু প্রমুখ।

print