সাফি উদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’ ছবিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। ক্রিকেট ও ক্রিকেটার শব্দ দুটি জড়িয়ে থাকায় স্বভাবতই ছবিটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো ক্রিকেটপাগল মানুষদের মধ্যে। ছবিটি দেখার অপেক্ষায় দিনও গুনছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া ছবিটির ট্রেলারে ‘ক্রিকেট ও ক্রিকেটার’দের হাস্যকার উপস্থাপনের জন্য হতাশ হয়েছেন অনেকেই। গেল ৮ অক্টোবর এক মিনিট উনষাট সেকেন্ডের এই ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই ছবিটি নিয়ে সোশাল মিডিয়াতে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। আর বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভিডিওটি দেখে শাকিবকে দিয়ে বাঙালির আবেগের অন্যতম বিষয় ক্রিকেট ও ‘জাতীয় বীর’ প্রতিম ক্রিকেটারদের অযৌক্তিক এবং হাস্যকর করার জন্য ছবির পরিচালকের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ট্রেলারের প্রথম ঝলকেই শাকিব খানকে দেখা গেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ৭৫ নাম্বার জার্সিতে আসাদ আহাম্মাদ নামের খেলোয়ার হিসেবে ড্রেসিং রুম থেকে গ্যালারির মধ্য দিয়ে দৌঁড়ে মাঠে প্রবেশ করছেন! দুনিয়ার কোনো ক্রিকেটারের এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে মাঠে আসার দৃশ্য এটাই প্রথম। চলচ্চিত্র বলেই কি গল্পের গরু আকাশে উড়াতে হবে? আরেকটু বাস্তব সম্মত করা গেল না?- এমনই এক প্রশ্ন পরিচালকের প্রতি ছুঁড়ে দিয়েছেন নাঈমুল ইসলাম নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। রামিন তালুকদার নামে এক স্পোর্টস রিপোর্টার লিখেছেন, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’তে শাকিবকে যেমন দেখলাম মাটির দুনিয়ায় এমন কোনো ক্রিকেটার দেখা হয়নি। বুঝতে পারছি না তিনি আসলে কোন গ্রহের ক্রিকেটার?’

আর হাস্যরসের তৈরি করেছে একজন জাতীয় দলের তারকা হিসেবে শাকিবের বডি-ফিটনেস। এখানে শাকিবকে দেখা গেছে মুটিয়ে যাওয়া একজন ক্রিকেট কোচের মতোই।

তবে ক্রিকটোর শাকিবের লাফিয়ে মাঠে আসার চাইতেও বেশি দৃষ্টিকটু লেগেছে ব্যাট ও হেলমেট ছাড়া মাঠে প্রবেশ। একজন ব্যাটসম্যান যখন মাঠে নামবেন তখন তিনি নিজের প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন- এটাই বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ম। অন্যথা হলে ব্যাটসম্যানকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু ট্রেলারে দেখা গেছে শাকিব লাফ দিয়ে মাঠে এসে পড়েন। তারপর তিনি আউট হয়ে মাঠ ছাড়তে যাওয়া ব্যাটসম্যানের হাত থেকে প্রায় ছিনতাই করার ভঙ্গিতেই ব্যাট ও হেলমেট ছিনিয়ে নিয়ে মাঠে নামেন। অনেকেই এই দৃশ্যটিকে অদক্ষ পরিচালনা দাবি করেছেন। সেইসাথে ক্রিকেটের রীতি-নীতি না জেনে ও মেনে ক্রিকেট নিয়ে ছবি পরিচালনার জন্যও পরিচালককে ধিক্কার জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ট্রেলারটির নিচে মাহিম হোসেন মুক্ত নামে এক দর্শক কমেন্টস করেছেন, ‘সবই ঠিক আছে।  কিন্তুু বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কি একটাই ব্যাট যে ছিনতাই করে নিয়ে মাঠে নামতে হবে। ক্রিকেট ভদ্রতার খেলা। এজন্য আস্তে আস্তে আসলেই পারতো। এতো দৌড়ঝাঁপ এর প্রয়োজন কি ছিল।’

ট্রেলার দেখে শাকিবের জার্সি নাম্বার ৭৫ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ। তারা বলছেন এই জার্সিতে দেশের সেরা খেলোয়ার সাকিব আল হাসান খেলেন। তাই তার খেলোয়ারি সময়ে নির্মিত ছবিতে তার জার্সি নাম্বারটি ব্যবহার না করাই ভালো ছিলো।

পাশাপাশি ট্রেলারে বেশ কয়েকবার দেখা গেছে শাকিব ব্যাট হাতে মারামারি করছেন। এ নিয়ে শারমিন সুলতানা পরাগ নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থি লিখেছেন, ‘ব্যাট কি মারামারির হাতিয়ার নাকি! আর একজন ক্রিকেটারকে এভাবে সন্ত্রাসি রুপে দেখিয়ে কি শিখাকে চাইছেন এই ছবির পরিচালক?’- ৩৮২টি লাইক পাওয়া এই প্রশ্নটা আমাদেরও।

এখানেই শেষ নয়। ক্রিকেট নিয়ে ছবি বলে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’র প্রচার চালানো হলেও ট্রেলার জুড়ে দেখা গেছে প্রেম-রোমান্সের ছড়াছড়ি। না পাওয়া গেছে কোনো সাসপেন্স, না পাওয়া গেছে কোনো নিঁখুত গল্পের আভাস। অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, শাকিবরে এই ছবিটি অন্য কোনো ছবির নকল নয়তো! কেননা, ঢাকাই ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে বছরের ৯০ শতাংশ নকল ছবিগুলোর নায়ক থাকেন শাকিব। তবে এক্ষেত্রে ভরসা পরিচালক সাফিউদ্দিন সাফি। প্রথমবারের মতো ক্রিকেট ও ক্রিকেটার নিয়ে ছবি বানানোর ফলে বেশ কিছু ভুল আর গোলমাল থাকলেও মৌলিক গল্পের চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সুনাম রয়েছে তার।

প্রসঙ্গত, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’তে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। এখানে তার বিপরীতে রয়েছেন জয়া আহসান। এছাড়া আরো অভিনয় করেছেন ইমন, মৌসুমী হামিদ, ওমর সানি, শহিদুল ইসলাম সাচ্চুসহ অনেকেই। অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে আসিফ, এবং সাবেক ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার সুমনকে।

প্রসঙ্গত ১৬ই অক্টোবর ২০১৩ সালে ঈদ উল আযহায় চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’। প্রথম ছবির সাফল্যের পর পরিচালক সাফি উদ্দিন সাফি নির্মাণ করছেন দ্বিতীয় তার কিস্তি ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’।

print