ঢাকা: অবৈধ যৌন সম্পর্কের অপরাধে সৌদি প্রবাসী শ্রীলঙ্কার এক গৃহকর্মীকে পাথর ছুঁড়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আদেশ দিলেন সৌদি আদালত। সৌদি আরবের রিয়াদে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক করায় গৃহকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার পুরুষসঙ্গীকে ১০০ দোররা (বেত্রাঘাত) মারার আদেশ দেয়া হয় আদালত থেকে।

সৌদি আরবের ‘শরিয়া’ বা ইসলামী আইন অনুসারে, ব্যভিচার কিংবা মাদক পাচারের মত অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। যেহেতু পরকীয়ারত ওই নারী বিবাহিত, কাজেই এই যুক্তিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার পুরুষসঙ্গী অবিবাহিত হওয়ায় তাকে কম শাস্তি দেয়া হয়েছে। অবশ্য সৌদির এই শরিয়া আইনের সাথে মানবাধিকার আইনের তুমুল বিরোধ রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার এক কর্মকর্তা বলেছেন, ওই নারী ২০১৩ সালে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য সৌদি আরবে যান এবং তার সঙ্গীও শ্রীলঙ্কার নাগরিক, শ্রমিক হিসাবে সেখানে কর্মরত।

সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী এই শ্রীলঙ্কান নারী বিবাহিত এবং আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন। আদালতের রায়ের পরে তাকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য শ্রীলঙ্কান সরকারের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই নারী ক্ষমা পাবেন কি না সে বিষয়ে কলম্বোর সৌদি দূতাবাসে যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

শ্রীলঙ্কার বিদেশি কর্মসংস্থান ব্যুরোর মুখপাত্র উপল দেশাপ্রিয়া রয়টার্সকে বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা ছাড়াও ব্যুরোর পক্ষ থেকে ওই নারীর জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। সেইসাথে বিষয়টি সমাধান করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও কূটনৈতিক আলোচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার প্রায় কয়েক লাখ নাগরিক সৌদিতে গাড়িচালক এবং গৃহকর্মী হিসাবে কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। এদের বেশিরভাগই অশিক্ষিত এবং আরবিতে কথা বলতে পারেন না। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল থেকে বলা হয়, সৌদি আরবে এবছর প্রায় দেড়শো মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যেটা বিগত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এবং আরবিতে কথা না বলতে পারায় এসব মানুষ আদালতে সুবিচার পাচ্ছেন না।

print