জাপানের একটি উপকূলীয় তীরে ভৌতিকভাবে ভেসে এসেছে ১১ টি রহস্যময় জাহাজ। জাহাজগুলোর মধ্যে পাওয়া গেছে ২০ জন নাবিকের মরদেহ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে, জাহাজগুলো কোন দেশের যুদ্ধ জাহাজ। তবে উদ্ধারকারীদের বক্তব্যে জানা যায়, জাহাজে থাকা মৃত দেহগুলো এতটাই বীভৎস ছিল যে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ১১ টি জাহাজের মধ্যে চারটিকে এই মাসে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে আর বাকি চারটিকে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পরিষ্কার করা হবে বলে জাপানের জাহাজ উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ মারফত জানা যায়।

জাহাজগুলো মঙ্গলবার টোকিও থেকে ২৫০ মাইল দূরে ফুকি উপকূলে খুঁজে পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন যাবৎ জাহাজে থাকা লাশগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তাদের পরিচয় সনাক্ত করা একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না। তাই বলে লাশগুলোকে ফিরে জল্পনা কল্পনার শেষ হচ্ছে না কিন্তু। একেবারে জলদস্যু থেকে রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্র কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না জাহাজগুলো সম্পর্কে ঘিরে থাকা কাহিনীর মধ্যে।

তবে জাহাজগুলো থেকে উত্তর কোরিয়ার পতাকা পাওয়া গেছে। আর জাহাজগুলোর গায়ে লেখা ও নানারকম জিনিস দেখে বোঝা যায় যে, জাহাজটি কোরিয়ার সেনাবাহিনীদের যুদ্ধ জাহাজ ছিল। আবার এও ধারণা করা হয় জাহাজগুলো উত্তর কোরিয়ার মাছ ধরার জাহাজও হতে পারে। কারণ উত্তর কোরিয়া তাদের মাছ শিল্পকে প্রসারিত করার জন্য উপকূলগুলোতে প্রায়ই এমন যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়ে থাকে। তবে জাহাজগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই হারিয়ে যায় মাছ ধরার এই জাহাজগুলো।

আবার অনেকে মনে করেন উত্তর কোরিয়ার অত্যাচারী শাসক কিম জং উনের হাত থেকে পালানোর জন্যই জাহাজগুলো যাত্রা করেছিল। প্রচন্ড ঝড়ের মুখে জাহাজগুলো তাদের গন্তব্য হারিয়ে ফেলে উপকূলীয় রেখার বাইরে চলে যায় ফলে এই দূর্ঘটনা ঘটে। এত সব তথ্যের পরেও জাপান সঠিক করে কিছুই বলতে পারছে না রহস্যময় এই জাহাজগুলোর আগমন সম্পর্কে।

print