ক্যান্টনিজ অপেরা চীনের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। যদিও এর উৎপত্তিস্থল নিয়ে এখনও বেশ বিতর্ক রয়েছে। সাধারণত ধারণা করা হয়, এই অপেরার প্রচলন হয়েছে হংকং থেকে কিন্তু চীন দাবি করে তারাই প্রথম এর প্রচলন করে ১৩’শ শতাব্দীর দিকে। নানারকম আঞ্চলিক গানের মধ্যে দিয়ে অভিনয় করে পরিবেশন করা হয় ক্যান্টনিজ অপেরা। তবে শুধুই যে গানই ক্যান্টনিজ অপেরার মুখ্য বিষয় তা নয়, এর সঙ্গে মার্শাল আর্ট, অভিনয় এবং নৃত্যও পরিবেশন করা হয়।  আমাদের দেশের যাত্রাপালার সঙ্গে এর খানিকটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ক্যানটোনিজ অপেরার মধ্যে দিয়ে একদল তরুণ অভিনয় শিল্পীরা চীনের প্রাচীন চরিত্রগুলোই সবার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করে।

বছর বছর চীনের থিয়েটারগুলোতে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী এই অপেরা। মুখে বিভিন্ন রকম রং লাগিয়ে চাকচিক্যময় পোষাক পরিধান করে অভিনয় শিল্পীরা পরিবেশন করে থাকেন এই অপেরা। অনেকে শখের বশে আবার অনেকে পেশা হিসেবেও বেছে নিয়েছে অপেরাকে। মিতচি চোই(২২) তেমনই একজন অপেরা শিল্পী। অপেরায় অংশগ্রহন করার পর তার প্রধান কাজ ছিল গান গাওয়া আর মার্শাল আর্ট করা। কিন্তু শারিরীক গড়ন এবং ভারি গলা হওয়ার কারণে তাকে পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ দেয়া হয়। তার ভাষ্যমতে ‘যখন আমি চাইনিজ অপেরা শেখা শুরু করি প্রথমে আমাকে পুরুষ চরিত্র করতে দেয়া হয়। প্রথম দিকে আমার বিরক্ত লাগলেও এখন আমার এটাই করতে ভালো লাগে’। অপেরার শেখার পাশাপাশি তিনি এখন নানান ভাষা শেখার চর্চাও করে থাকে।

তবে চীনের চেয়ে হংকং এ ক্যান্টনিজ অপেরার প্রচলন একটু বেশি। হংকং প্রতিবছর এক হাজারেরও বেশি ক্যানটোনিজ অপেরার আয়োজন করে থাকে। দর্শক সারিতে পূর্ণবয়স্কদের থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদেরই বেশি দেখা যায়। বেশ আগ্রহ নিয়ে তারা উপভোগ করে এই অপেরাগুলো। এছাড়া যারা অপেরা শিখতে আগ্রহী তাদের জন্য থিয়েটারগুলোতে নানারকম শর্ট কোর্সের ও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানায় থিয়েটার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এত ঐতিহ্যবাহী রীতি হওয়া স্বত্ত্বেও আধুনিকতার জোয়ারে যেন ঘুনে ধরেছে চীনা-হংকং অপেরা জগতে। অধিকাংশ অপেরাহাউজগুলোর অবস্থা সঙ্গীন, কোনোমতে বাশ ইত্যাদি দিয়ে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে ফেলে আসা সময়ের অনেক ঐতিহ্যের মতো অপেরাও হারিয়ে যাবে।

১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চীনের মূলভূখন্ডে সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়। সেই সময়টাতে চীনের বেইজিংয়ের বেশ কয়েকটি অপেরা হাউজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এমনকি অপেরা ছাড়াও সেখানে কোন রকম নাটক, সিনেমা এমনকি সাংস্কৃতিক সব রকম অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে তা আবার উন্মুক্ত করে দিলে হংকং এ বেশ অল্প পরিসরে অপেরা চর্চা শুরু হয়। হংকং এর পরে চীনেও পুরোদমে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী এই অপেরা। আয়োজকরা মনে করেন, অপেরার মধ্যে দিয়ে তরুণদের কাছে চীনের প্রাচীন সংস্কৃতি তুলে ধরা সম্ভব যা এখনও অনেকেরই কাছে অজানা। তারা আরো মনে করেন পুরনো ধাচে চলা এই ক্যান্টনিজ অপেরার মধ্যেও কিছু নতুনত্ব আনা দরকার। তবে সরকারের সহযোগিতা পেলে তা অনেকটা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

print