সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরুর অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি’দেরকে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, “সন্ত্রাসী হামলা থেকে জনগণকে নিরাপদ রাখাই এর উদ্দেশ্য।”

সিরিয়ায় হামলা যুক্তরাজ্যকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) ধ্বংসের মার্কিন-নেতৃত্বাধীন অভিযানেও বাস্তবিক পরিবর্তন ঘটাতে পারবে বলে বুধবার এমপি’দের সামনে যুক্তি দেখান ক্যামেরন।

খবর বিবিসির।

কিন্তু ক্যামেরনের সব যুক্তি ম্লান হয়ে যায় তার প্রতি এমপি’দের ক্ষমা প্রার্থণার দাবির মুখে। সিরিয়ায় হামলার বিরোধীদেরকে কটাক্ষ করায় ক্যামেরনকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করছেন এমপি’ রা।

সিরিয়ায় বিমান হামলার বিরোধীদেরকে ক্যামেরন ‘সন্ত্রাসীদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে। বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেন, ক্যামেরনের এ ধরনের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য অত্যন্ত অমর্যাদাকর।

ক্যামেরন অবশ্য ক্ষমা চাওয়ার কোনো আগ্রহ দেখাননি। তবে বলেছেন, সিরিয়ায় সামরিক ব্যবস্থার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা সবারই থাকছে এবং বিপক্ষ মতের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল।

হাউজ অব কমন্সে সিরিয়া ইস্যু নিয়ে ১০ ঘণ্টার বিতর্ক শেষ হবে ভোটের মধ্য দিয়ে। যুক্তরাজ্য সিরিয়ায় আইএসের আস্তানাগুলোতে বিমান হামলায় ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগ দেবে কিনা ভোট হবে সে প্রশ্নে।

ক্যামেরনের প্রস্তাব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হলে কয়েকদিনের মধ্যেই সিরিয়ায় হামলা শুরু করবে যুক্তরাজ্য।

বিরোধী লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন এরই মধ্যে সিরিয়া ইস্যুতে তার দলের সাংসদদেরকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে দেওয়ায় রাজি হওয়ায় প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হবে বলেই মনে করছেন ক্যামেরন।

যুক্তরাজ্যের জন্য আইএস হুমকি হওয়ার কারণে জাতীয় স্বার্থে এ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোই সঠিক পদক্ষেপ হবে বলে ক্যামেরন যুক্তি দেখিয়েছেন। আর একাজের জন্য অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেওয়ার এখনই সময় বলে তিনি মনে করেন।

ক্যামেরন বলেন, “প্যারিসে প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার পর যুক্তরাজ্য তাদের নিরাপত্তাভার অন্য দেশগুলোর কাছে ছেড়ে দিয়ে রাখতে পারে না।”

সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চালানোর অনুমোদন চেয়ে গত সপ্তাহেই পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন ক্যামেরন। কিন্তু প্রস্তাবটি তুমুল বিতর্কের মুখে পড়ে।

লেবার নেতা করবিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। খোদ ক্যামেরনের কনজারভেটিভ পার্টিতেও প্রস্তাবের বিপক্ষে কথা বলেন কেউ কেউ। তখন থেকেই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন আদায়ের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছেন ক্যামেরন।

print