স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীর পূর্ব পারে লঞ্চ ইজারাদার ও তার লোকজনের কাছে জিম্বি হয়ে পড়েছে লঞ্চ ব্যবসায়ী, যাত্রী ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। সাংসদ আলহাজ্ব একেএমএ আউয়ালের চেষ্টায় প্রায় দেড় যুগ পর গত ২০ অক্টোবরে স্বরূপকাঠীর পূর্ব পাড়ের লঞ্চঘাটটি চালু হয়। ঘাটটি চালু হওয়ার পর যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমেছিল। এর আগে সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে ইন্দেরহাট থেকে যাত্রী সাধারণ লঞ্চে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করত এবং মালামাল আনা নেয়া করতো। ইজারাদার ও তার লোকজনের উৎপাতে ভোগান্তি আবার বেড়েছে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের। খোজ নিয়ে জানাগেছে, ঘাটে ইজারার দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লাভলু আহম্মেদের ভাই আ: ছালাম। ইজারা নেয়ার পর থেকে আ: ছালাম ও তার লোকজন ঢাকা-স্বরূপকাঠী-হুলারহাট রুটে চলাচলকারী লঞ্চ, যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। স্বরূপকাঠীর একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি স্বরূপকাঠীর ছারছিনা দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে দোকান নিয়ে আসেন নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদি এলাকার ইলিয়াস হোসেন। লঞ্চ থেকে মালামাল নামানোর সময় তার কাছ থেকে সাড়ে ৪’শ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইজারাদারের লোকজন। ইলিয়াস হোসেনের ঘনিষ্ট একজন জানান, সাড়ে ৪’শ টাকা দিতে ইলিয়াস হোসেন অপরাগতা জানালে তাকে হেনস্তা হতে হয়েছে। পরে নিরূপায় হয়ে তিনি এ টাকা দিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, ঢাকার সদরঘাট থেকে তার দোকানের মালামাল লঞ্চে তুলতে দেড়’শ টাকা দিতে হয়েছে। জানাগেছে, ইলিয়াস হোসেনের মতই প্রতিদিনই অনেককেই হেনস্তা হতে হচ্ছে। ঢাকা-স্বরূপকাঠী-হুলারহাট-ভান্ডারিয়া রুটে চলাচলকারী এক লঞ্চের কেরানী জানান, স্বরূপকাঠী ঘাটে লঞ্চের বার্দিং চার্জ (লঞ্চ ভেড়ানোর ভাড়া) অতিরিক্ত হারে দিতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্বরূপকাঠীর পূর্ব পারের এক ব্যবসায়ী জানান, আমরা ইজারাদার ও তার লোকজনের অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

print