স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এর হাই কোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস বলেছেন, এ দেশের গরীব দুঃখী মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে দেশ পরিচালনার সময় ২০০০ সালে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন প্রনয়ণ করেন। পরবর্তী সময়ে এই আইনটির কার্যকরিতা উল্লেখ করার মতো ছিল না। ২০০৯ সালে পুনরায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই আইনটিকে আরও সময় উপযোগী ও যুগোপযোগী করেছেন এবং আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা প্রনয়ণ করে এ আইনের সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করেছেন। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০১৬ উদযাপন উপলক্ষে পিরোজপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস আরও বলেন, পিরোজপুরের লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, যে উদ্দেশ্য নিয়ে বর্তমান সরকার এ আইনটি প্রনয়ন করেছিল পিরোজপুরে সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। এ প্রসংগে বিচারপতি আরও বলেন গরীব দুঃখীর আইনগত সহায়তা দেয়ার জন্য এই জেলার কমিটি জেলা জজের নেতৃত্বে যেভাবে কাজ করছে দেশের বাকী জেলা গুলো সেভাবে কার্যক্রম চালালে আগামী এক বছরের মধ্যে এ দেশের গরীব দুঃখী মানুষের সরকারি আর্থিক সহায়তায় ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পথ নিশ্চিত হবে। আলোচনার শুরুতে দিবসটি পালন উপলক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত পিরোজপুরের আশা নামক একটি স্মরনিকার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি।
“গরীব দুঃখীর বিচার পাওয়ার অধিকার, বর্তমান সরকারের অঙ্গিকার” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আইনগত সহায়তা দিবসের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং লিগ্যাল এইড পিরোজপুর জেলা কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সেখ, পুলিশ সুপার মোঃ ওয়ালিদ হেসেন। এ ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও যুগ্ম জেলা জজ (১ম) মোঃ গোলাম ফারুক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজিবুর রহমান খালেক, জেলা আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস.এম. বেলায়েত হোসেন, পিপি খান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, এ্যাডভোকেট এম.এ. মান্নান, এ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস, সিনিয়র সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা গৌতম চৌধুরী, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, জেলা বারের সদ্য প্রয়াত সভাপতি গোবিন্দ কুমার রায় চৌধুরীর পুত্র ডাঃ সুমিত কুমার রায় চৌধুরী ও লিগ্যাল এইডের আইন সহায়তা প্রাপ্ত তানিয়া আক্তার। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পিরোজপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা বারের সদ্য প্রয়াত সভাপতি গোবিন্দ কুমার রায় চৌধুরীর আত্মার শান্তি কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পিরোজপুরে বিভিন্ন আরম্ভর পূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে লিগ্যাল এইড দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য গোবিন্দ কুমার রায় চৌধুরী গত ১৯ এপ্রিল বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে আকস্মিক মৃত্যু বরণ করায় তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কর্মসূচি অনারম্ভর করা হয়। সমস্ত কর্মসূচিতে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আলোচনা সভা শেষে পিরোজপুর জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
এদিকে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি র‌্যালী শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালীতে বিভিন্ন ফেস্টুন নিয়ে জেলা জজ আদালতের বিচারক বৃন্দ, আইনজীবী বৃন্দ, সাংবাদিক বৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা বৃন্দ সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ বিপুল পরিমান মানুষ অংশ গ্রহন করেন।

print