স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার দুই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীকে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক সহযোগিতা করা হয়েছে। মঞ্জিলার পিতা একজন মৎস্যজীবী আর মা অন্যের বাড়ীতে ঝি’এর কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করেন। খাইরুন্নাহারের পিতা জীবিত নেই, মাতা টিউশনী করে কোন প্রকারে সংসার পরিচালনা করে। জীবিকা নির্বাহ করাই যাদের নিরন্ত সংগ্রামের নাম, তাদের জীবনে লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠা লাভের স্বপ্ন এক কঠিন দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কী হতে পারে। তারপরও কেউ কেউ সেই দুঃস্বপ্নকে জয় করে অদম্য সাহসিকতা আর মেধা দিয়ে। তেমনই দুঃসাহসিক স্বপ্নচারী দুই হার-না-মানা যোদ্ধা এবার এস এস সি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তারা সোমবার সকালে তাদের আনন্দ-বেদনার কাব্য শুনাতে জেলা প্রশাসন অফিসে এসে হাজির। অবাক বিস্ময়ে শুনলো জেলা প্রশাসক তাদের যুদ্ধ জয়ের কাহিনী। এ যুদ্ধ এখানেই শেষ নয়, তারা যেতে চায় আরো বহুদূর। সে অভিযাত্রায় প্রয়োজন সমাজের স্বচ্ছল সুহৃদ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা। পিরোজপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক তাদের কাঙ্খিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে সহযোগিতা প্রদান, ১ম বর্ষের সকল বই এবং দুই বৎসর যাবত প্রতিমাসে পাচঁ শত টাকা বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক এককালীন অনুদানের আশ্বাস পাওয়া গেছে। আমাদের ঐকান্তিক শুভ কামনা তারা যেন জীবনযুদ্ধে বিজয়ী ‘জয়িতা’ হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।

print