স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সব সময় আমাদের একটা সন্ত্রাসবিরোধী ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে আমরা কোনো মতেই প্রশ্রয় দেব না। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে হুইপ শহিদুজ্জামান সরকারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী আজ বিদেশি বিনিয়োগ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ সংসদে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান আমি সব সময় করি। ওআইসিতে (ইসলামি সম্মেলন সংস্থা) যতবার গেছি, এ প্রশ্নটা আমি তুলেছি। ওআইসি মহাসচিবের সঙ্গে যখনই দেখা হয়েছে, আমি এ কথাটা বলেছি।’ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব একটি ইসলামি জোট গঠন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করার জন্য এ জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে। প্রায় ৪০টা দেশ এ জোটে যুক্ত। ফলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গোটা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য যা যা করণীয়, সেটা বাংলাদেশ করবে। এ ব্যাপারে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এটা আমি মুসলিম দেশগুলোকে জানিয়েছি। সৌদি বাদশাহকেও জানিয়েছি। ওআইসিকেও জানিয়েছি।’ শাজাহান কামালের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘দেশে আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এসব লক্ষ্য নিয়েই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলেছি। বিদেশি বিনিয়োগ যাতে দেশে আসে, সে জন্য আমরা বিশেষ সুবিধাগুলো দিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক উদারনীতি গ্রহণ করেছে। এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আমাদের দেশে প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিরাট সুযোগ দিচ্ছে, এটা বিশ্বে স্বীকৃত। ২০১৪ সালের তুলনায় এবার বিনিয়োগ ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’ জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নারী-পুরুষ সবার জন্য উন্মুক্ত। নারী, পুরুষ যেকেউ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। নারীরা সরাসরি নির্বাচন করতে পারে। আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল থেকে নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে প্রথম নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেই। সৃষ্টি করে দেই সংরক্ষিত আসন। সংরক্ষিত আসনগুলোতে শুধু নারীরাই দাঁড়াতে পারে। পুরুষ পারে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম প্রশ্নটি হবে নারীদের এত ক্ষমতা দিলাম, পুরুষদের জন্য কিছু করব কি না। উনি সেই প্রশ্নটা করবেন। তবে সেই দিন বেশি দূরে নয়, ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যাবে পুরুষ অধিকার সংরক্ষণ কমিটি করা হচ্ছে, তখন আমার সমর্থন পাবেন।’

print