স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের ফেরিগুলো চলছে ভাঙা পন্টুন, গ্যাংওয়ে, ইঞ্জিনের কন্ট্রোল প্যানেলে ত্রুটি নিয়ে। গত কয়েক মাসে এ ফেরিগুলো প্রায় ৭০ বার বিকল হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ জুন বেকুটিয়া ঘাট থেকে ফেরি ছাড়ার পর ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিলে তা ভেসে ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে চলে যায়। পিরোজপুর সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর-পাথরঘাটা সড়কে চরখালী ফেরি, পিরোজপুর-বরিশাল সড়কে বেকুটিয়া ফেরি, পিরোজপুর-স্বরূপকাঠি সড়কে আমড়াজুরি ফেরি রয়েছে। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ফেরি সার্ভিস (ফেরি,পন্টুন, গ্যাংওয়ে) তদারকির দায়িত্ব বরিশাল ফেরি বিভাগের। তাদের খামখেয়ালির কারণে মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। তবে বরিশাল ফেরি বিভাগের কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সরেজমিনে চরখালী, বেকুটিয়া, আমরাজুড়ি ফেরি পরিদর্শন করে তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীতে চলাচলকারী চরখালী ফেরির চালক মাহাবুব জানান, নদীর যা দূরত্ব তাতে ৮ মিনিটে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে পৌঁছানো যায়। কিন্তু ইঞ্জিনে ত্রুটি থাকার কারণে নদী পার হতে প্রায়ই ৪ থেকে ৫ গুণ (৩০-৪০ মিনিট) সময় লেগে যায়। পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম জানান, জেলার মধ্যে যে ফেরিগুলো চলাচল করছে তার সবগুলোর অবস্থাই খারাপ। বেকুটিয়া, চরখালী ও আমরাজুড়ি ফেরির ইজারাদার আজমির হোসেন মাঝি জানান, ত্রুটির কারণে গত কয়েক মাসে বেকুটিয়া ফেরি ২৮ বার, চরখালী ফেরি ২৬ বার ও আমরাজুড়ি ফেরি ১৪ বার বিকল হয়েছে। একবার বিকল হলে এ ফেরি কখনও দু’দিন বা কখনও এর বেশি বন্ধ থাকে। কুয়াকাটা ও মৎস্য বন্দর পাথরঘাটার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী এ ফেরি দুটি সার্বক্ষণিক সচল রাখার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যেন উদাসীন। ফেরি বিভাগ বরিশাল কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: শামিমুল হক জানান, চরখালী ও বেকুটিয়ায় দুটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন বসানোর চেষ্টা চলছে। এ ইঞ্জিন দুটি বসাতে পারলে ফেরির বেহাল দশা থাকবে না।

print