স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরে পাওনা টাকা চাওয়ায় মহিলা দোকানদার সহ একই পরিবারের ৫ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে। শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ইজারা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দোকানের বাকি পাওনা টাকা চাওয়ায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন, দোকানদার রিজিয়া বেগম, তার স্বামী ইলিয়াস সিকদার, দেবর মোকসেদ আলী সিকদার ও বেল্লাল সিকদার এবং ননদ তহমিনা। আহতদের মধ্যে চার জনকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিজিয়া জানান, বাড়ির সামনে তার একটি মুদি দোকান রয়েছে। তার দোকান থেকে একই এলাকার আলম শেখ, রফিক শেখ, বেল্লাল শেখ, ছায়েদ শেখ ও তকবির শেখ কেনাকাটা করত। তারা সকলেই একই পরিবারের লোক। তাদের কাছে রিজিয়ার পাওনা টাকা রয়েছে। তিনি বেশ কিছু দিন ধরে পাওনা টাকা দেওয়ার জন্য তাগিদ দিচ্ছিলেন তিনি এবং তারা টাকা দেওয়ার কথাও বলেছিল। তবে সময়মত টাকা না দেওয়ায় তিনি শনিবার সন্ধ্যায় বেল্লাল শেখকে তার দোকানের সামনে পেয়ে পুনরায় পাওনা টাকা দেওয়ার জন্য বলেন। এ সময় বেল্লাল টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, রিজিয়ার স্বমী ইলিয়াচ রিজিয়াকে বাকী দেওয়ার জন্য ভৎসনা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেল্লাল ও তার পরিবারের অন্যান্যরা ইলিয়াচকে মারধোর শুরু করে। রিজিয়া তার স্বামীকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে বাড়ির মধ্যে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর রিজিয়ার দেবর ঝাল মুড়ি বিক্রেতা বেল্লাল শেখ সেখানে গেলে হামলাকারীরা তাকেও মারধোর করে। তার ডাক চিৎকারে রিজিয়া, তার স্বামী, দেবর মোকসেদ আলী ও ননদ তহমিনা এগিয়ে যায়। এ সময় তাদেরকে লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে বেল্লাল ও তার পরিবারের লোকজন। রিজিয়া জানান, হামলাকারীদের দলে ১০ জনের অধিক লোক থাকায়, তারা তাদেরকে প্রতিহত করতে পারেনি। শুধু তাই নয়। তারা যাতে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে না পারে, সেজন্য বাধার সৃষ্টি করে হামলাকারীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেল্লাল সিকদার বলেন, তার শরীরের সমস্ত স্থানে পিটিয়েছে হামলাকারীরা। এ ব্যাপারে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম মাসুদউজ জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশে গিয়েছিল এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিনি আহতদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। তবে তারা কোন অভিযোগ দেননি।

print