রাজধানীর গুলশানের ক্যাফে হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলা পর জিম্মি সংকট নিরসনে চালানো হয় উদ্ধার অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। ওই অভিযান চলাকালে পার্শ্ববর্তী ভবন থেকে ধারণ করা পাঁচটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।

দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক ডি.কে হোয়াং তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এসব ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তিনি ভিডিওগুলোর ক্যাপশনে দাবি করেছেন, জিম্মিদের মুক্ত করতে পরিচালিত অভিযানের ভিডিও। তবে অভিযান পরিচালনাকারী যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে ভিডিওগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ফেসবুকে ডি.কে হোয়াংয়ের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করছেন।

ফেসবুক থেকে ভিডিওগুলো এখানে যুক্ত করা হলো-
https://www.facebook.com/duckkyu.hwang.3/videos/1767218403516099/

https://www.facebook.com/duckkyu.hwang.3/videos/1767212983516641/

https://www.facebook.com/duckkyu.hwang.3/videos/1767220993515840/

উল্লেখ্য, গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের রেস্টুরেন্ট ‘হলি আর্টিজান বেকারি’তে শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে প্রথম হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। গুলি করতে করতে ভেতরে ঢুকে রেস্টুরেন্টে থাকা লোকদের জিম্মি করে ফেলে তারা। খবর পেয়ে গুলশান থানাসহ আশেপাশের থানাগুলো থেকে পুলিশ ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। গিয়েই তারা রেস্টুরেন্ট কম্পাউন্ডে ঢুকে পড়ে। সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ও বিস্ফোরক দিয়ে পাল্টা আক্রমণ করলে পুলিশ সদস্যদের অনেকেই হতাহত হন। পিছু হটতে বাধ্য হন পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এরপর শনিবার সকাল সাতটা চল্লিশে শুরু হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। ১২-১৩ মিনিটের মধ্যে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হয়। সাড়ে আটটায় অপারেশন সমাপ্ত করা হয়।

অভিযানে ৩ জন বিদেশি যার মধ্যে ১ জন জাপানি এবং ২ জন শ্রীলঙ্কান নাগরিকসহ মোট ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আর অভিযানের পর তল্লাশি শেষে আরও ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ৬ সন্ত্রাসী নিহত হন।

হামলায় নিহত ২০ জনের নাগরিকত্ব ও পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি ও ৩ জন বাংলাদেশি। বিদেশিদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি ও একজন ভারতীয়। বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছিলেন। নিহতদের পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

print