স্টাফ রিপোর্টার : আইএস ও আলকায়দাদের চরিত্র এবং বাংলাদেশের জঙ্গিদের চরিত্র এক নয়। আইএস ও আলকায়দা আত্মগাতী বোমায় আক্রমণ করে আর বাংলাদেশের জঙ্গিরা চাপাতি ও চাইনিজ দিযে কুপিয়ে হত্যা করে, তারা গলা কেটে হত্যা করে।

প্রধান অথিতির বক্তব্যে বলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খাঁন এমপি।তিনি আরোও বলেন, পবিত্র রমযান মাসে মানুষ যখন তারাবির নামাজ নিয়ে ব্যাস্থ ঠিক সেই মুহুর্তে ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে হামলা করে ২০জন দেশি-বিদেশি নাগরিক ও দুইজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। যারা হত্যা করেছে তারা ‘নারায়ে তাকবির-আল্লাহ আকবার’ বলে হত্যা করেছে। একই ঘটনা ঘটেছে এই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠের পাশেই। যখন এই শোলাকিয়া মাঠে লাখ লাখ মানুষ নামাজ পড়তে ব্যাস্থ ছিলেন, ঠিক তখনই জঙ্গিরা এই আজিমুদ্দিন স্কুলের পাশ দিয়ে শোলাকিয়া মাঠে গিয়ে একটা হত্যা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিলো তখন পুলিশ প্রতিহত করেছে, পুলিশ জিবন দিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।

এই জন্য আমি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করি। তিনি আরো বলেন, নামাজ হলো ইসলামের মৌলিক ইবাদত। এই নামাজের সময় যারা হত্যা করে, এর মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয় ওরা আসলে প্রকৃত মুসলমান না, ওরা ইহুদি। ওরা ইহুদিদের সঙ্গে হাত করে আজকে আমাদের এখানে মুসলমানদের হত্যা করছে।
ইহুদিরা মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য শুধু বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, যেমন ইরাক, শিরিয়া, আমেরিকা, ভূটান, আফগানিস্থান এবং সৌদিআরবেও এরকম ঘটনা ঘটাচ্ছে। গতকাল (২৫ জুলাই)জাপানেও বোমা হামলা করেছে। শুধু বাংলাদেশেও নয় তারা দেশের বাইরেও এইভাবে মানুষ মারছে।

তিনি আরো বলেন, আপনারা শুনেছেন যে আজ (২৬ জুলাই) সকালে ঢাকার কল্যাণপুরে যে নয়জন জঙ্গি মারা গেছে তাদেরকে কিন্তু আপনাদের মত জনগনরা টের পেয়ে পুলিশকে খবর দিয়েছে। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই জঙ্গি ও সন্ত্রাসদের প্রতিহত করতে হবে। আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে, স্থানীয় পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। মনে রাখতে হবে এই জঙ্গিরা কারও বন্ধু নয়, এরা ইসলামের শত্রু, এরা জনগণের শত্রু। ওদেরকে নির্মুল করতে হবে, ওদের সাথে মোকাবেলা করার দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়, আপনার আমার সবার। আমরা চিরদিনের জন্য নির্মূল করতে চাই এই জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের। তিনি আরো বলেন, কারা এর পিছনে মদদ দিচ্ছে। কথাই বলে বিনা বাতাসে নদির পানিও নড়ে না, গাছের পাতাও নড়ে না। এই সন্ত্রাসীরা-জঙ্গিরা কাদের মদদে এসব করছে। এই সন্ত্রাসীরা-জঙ্গিরা বিএনপি-জামাতের মদদে চলছে। এই জামাতি ইসলামরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের সময় সাধারণ মানুষদেরকে ধরে ধরে আল্লাহ আকবার বলে জবাই করেছে, মানুষদেরকে মেরেছে। তাই আমি মনে করবো এই জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা জামাত-বিএনপির মদদে চলছে।

২০১৫ সালের ঘটনা সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল বাংলাদেশে। ২০১৫ সালে বিএনপি-জামাত ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০ দলের নামে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে সারা বাংলাদেশে গাড়ির উপর পের্টোল বোমা মেরে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করে ৯২ জন ড্রাইভার, হেলপারকে হত্যা করেছে, ২০১৩/১৪ সালে ১৭ জন পুলিশ, ৩জন বিজিবি, ২জন ব্যাংক কর্মকর্তা, ২জন মুক্তিযোদ্ধাসহ অসখ্য মানুষদেরকে মেরেছে। তখন আমরা বিভিন্ন জেলায় জেলায় গিয়ে তা প্রতিহত করেছি। তিনি আরো বলেন, আমরা তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে এই আন্দোলন করেছিলাম। একটা হলো বিএনপি-জামাতের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন অকার্যকর করে দিতে হবে, ২য়টি হলো, তিনি যে লাগাতার হরতাল-অবরোধ ঘোষণা দিয়েছিলেন তা আমরা অকার্যকর করে দিয়েছি এবং ৩য়টি হলো খালেদা জিয়া, উনি স্বেচ্চায় অবরোদ্ধ হয়ে ছিলেন তার অফিসে।

আমরা সেদিন ঘোষণা দিয়েছিলাম বেগম খালেদা জিয়া আপনাকে বাড়ি যেতে হবে, তখন তিনি বলে ছিলেন উনি বিজয় বেসে যাবেন। কিন্তু তিনি বিজয় বেসে যেতে পারেন নাই। পরাজিত সৈনিকের মত বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন আমাদের আন্দোলনের মুখে। শেষ পর্যন্ত উনি বিজয় অর্জন করতে পারেন নাই। এখন খালেদা জিয়া বলেন, আমি জাতীয় ঐক্য চাই। এই জাতীয় ঐক্য কিসের ঐক্য। আপনার সঙ্গে কারা আছে। আপনার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধের চেতনার কোন লোক নেই। রাজাকার-আলবদর, খুনিদের সঙ্গে আমরা ঐক্য করতে পারি না।

পরিশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তির দেশ, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই ধর্মে জঙ্গিদের স্থান নেই, এই ধর্মে সন্ত্রাসীদের স্থান নেই। আর আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। কাদের বিরুদ্ধে এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, এই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে, এই বিএনপি-জামাতের বিরুদ্ধে। তাহলেই আমরা জয়ী হবো। আর এই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ কনস্টেবল আনসারুল হক, জহিরুল ইসলাম ও একজন হিন্দু মহিলা ঝর্ণা রাণী ভৌমিক নিহত হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তিনি দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের আজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জেলা শ্রমিক ফেডারেশন দলের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন।

জেলা শ্রমিক ফেডারেশন দলের সভাপতি হাজি সিরাজুল ইলামের সভাপতিত্বে ও শ্রমিক ফেডারেশন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. উসমান ফারকের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ও সাভার এনাম মেডিকেল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. এনামুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মো. জিল্লুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক তরফদার মো. আক্তার জামিল ও পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার খান প্রমুখ। এ সময় সমাবেশে কিশোরগঞ্জের গণ্যমাণ্যব্যক্তি বর্গ, প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়াসহ শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী এমপিসহ অন্যান্য অতিথিরা শোলাকিয়া হামলাকারিদের গুলিতে নিহত ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের পরিবারের সাথে স্বাক্ষাত করেন ও শোলাকিয়া মাঠসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

print