ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া পৌর শহরে সামান্য বৃষ্টি আর স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে । শহরের কিছু কিছু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ও পৌর শহর পোনা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এবং শহর রক্ষার বেড়িবাধ না থাকার ফলে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি ঢুকে সড়ক জলবদ্ধতা হয়ে পড়ছে। এছাড়া সামন্য বৃষ্টিতে শহরের বেশীরভাগ রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। এতে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, নবগঠিত ভান্ডারিয়া পৌরসভার গরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট এর অবস্থান নীচু স্থানে রয়েছে। তাছাড়া শহরের কোথাও এখনও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে সড়ক তলিয়ে গেলে পানি অপসারিত হয়না। এতে শহরের ওভার ব্রীজ সড়ক, টিএন্ডটি সড়ক, ডাকঘর সড়ক, কলেজ রোড, শহীদ মিনার সড়ক জলমগ্ন হয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।
অপরদিকে শহরের পশ্চিম পার্শ্বে পোনা নদীতে কোন বেরিবাধ না থাকার ফলে স্বাভাবিক জোয়ার ভাটার পানিতে প্রতিনিয়ত নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এতে শহরের কাপুড়িয়া পট্টি, কাঠপট্টি ও মুরগী বাজার এলাকা পানিতে তলিয়ে হাটু জলে বাজারঘাট সয়লাব হয়ে পড়েছে। এদিকে পৌর শহরের ষ্কুল পাড়ার শাহাবুদ্দীন ফাজিল মাদ্রাসা,বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়,ভা-ারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা বিদ্যলয়ের সামনের সড়কগুলে পানি জমে নাকালবাস্থা হয়েছে। এছাড়াও শহরের লক্ষীপুরা ও দক্ষিণ ভা-ারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। এসব সড়ক এবং এলাকায় জলমগ্ন হয়ে থাকায় মানুষ চরম দূুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
শহরের শহীদ মিনার সড়কের ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন, ভান্ডারিয়া শহরের এমন কোন সড়ক নেই যেখানে বৃষ্টির জল জমে না থাকে। শহরে কোন ড্রেন না থাকায় পানি অপসারণের কোন ব্যবস্থা নেই। । ভা-ারিয়া শাহাবুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সদস্য আলআমিন আহমেদ জানান, গত ২/৩ বছরে ধরে বর্ষা মৌসুম এলেই সামনের সড়কটিতে পানি জমে চলাচলে অনুপযোগি হয়ে যায়।
শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার জানান, পৌর শহরে বসবাস করেও কোন ধরণের সেবা পাচ্ছি না।
এ ব্যাপারে ভান্ডারিয়া পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ভান্ডারিয়া নবগঠিত পৌরসভা । পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্পে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

print