বরিশালের বানারীপাড়ার দাসেরহাট বাজারের মসজিদ বাড়ি ঘাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় আরো ৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

শুক্রবার সকালে সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এক শিশু ও দুই নারীর মরদেহ ভেসে ওঠে। পুলিশের হিসাব অনুসারে এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২ জন।

উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো শিশু জিদান ( ৮), আলপনা (২৫) ও মমতাজ বেগমের (৪০) বলে পুলিশ শনাক্ত করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল পৌঁনে ৯টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভেসে ওঠা এক শিশু, ৩ নারী এবং ২ পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

২৮ জনের প্রাথমিক নিখোঁজ তালিকা থাকলেও তাদের মধ্য থেকে দুইজন বাড়ি ফিরে গেছে এবং ভুলভাবে তাদের নাম এই তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বানারীপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল আহসান।

তবে আরো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করছেন বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও স্থানীয়রা।

বানারীপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল আহসান জানান, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনার পর ৫ জন তীরে উঠতে সক্ষম হয়। যার মধ্যে আহত এক নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া বুধবার দুপুর দেড়টায় যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরুর পর ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া নৌযান থেকে নারী ও শিশুসহ ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিরা।

ডুবে যাওয়া নৌযানটি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পানির উপরিভাগে উত্তোলনের পর সেটির মধ্য থেকে ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়। সকালে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার পর থেকে গত রাত ৮টা পর্যন্ত আরো ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। এছাড়া শুক্রবার সকালে সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার হয় এক শিশু ও দুই নারীর মরদেহ ।

ওসি আরো জানান, উদ্ধারকৃত নৌযানটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর মালিক বানারীপাড়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নৌযানটির কোনো রেজিস্ট্রেশন এবং রুট পারমিট ছিলো না বলে জানিয়েছেন বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ ঘটনায় নৌযান মালিকের বিরুদ্ধে মেরিন আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন তিনি।

print