স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল একমাত্র জামাইয়ের বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা করেছেন আর পিরোজপুরে করেছেন দুই ভাইসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডাইরী । আপন দুই ভাই হলো জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মো: হাবিবুর রহমান মালেক এবং জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: মজিবুর রহমান খালেক। আওয়ামীলীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক  এ্যাডভোকেট এম এ  হাকিম হাওলাদার এবং জেলা আওয়ামীলীগের দফতর সম্পাদক শেখ ফিরোজ আহম্মেদ।
১২ অক্টোবর পিরোজপুর সদর থানায় দায়ের করা  ওই ডায়েরিতে এ ৪ জনের বিরুদ্ধে তার অপূরণীয় ক্ষতি এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। অতি গোপনে এ ডায়রিটি করে তা কাউকে না জানানোর জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এমপি এ কে এম এ আউয়াল। কিন্তু পরে বিষয়টি চাউর হয়ে যায়। এ কারণে পিরোজপুর জেলা আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা দলের সভাপতি একেএমএ আউয়ালের উপর ফুসে উঠেন।
পিরোজপুর সদর থানায় করা ওই ডায়েরিতে সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল উল্লেখ করেন , তিনি হজে থাকাবস্থায় পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশে না থাকার কারণে কমিটি অনুমোদনের কপি তার হস্তগত হওয়ার আগেই এর  জেলা আওয়মীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট এম এ  হাকিম হাওলাদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান খালেক (পিরোজপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান), সদস্য হাবিবুর রহমান মালেক (মেয়র, পিরোজপুর পৌরসভা) এবং দফতর সম্পাদক শেখ ফিরোজ আহম্মেদ তার (সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল) নাম ভাঙিয়ে কতিপয় সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করতে যান। মাজার জিয়ারত শেষে পিরোজপুরে ফিরে এসে এরা কমিটির সদস্যদের সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অভ্যন্তরে নিয়ে একাধিক সাদা কাগজে তাদের স্বাক্ষর নেয়। এখনও অ্যাডভোকেট হাকিম হাওলাদারের নেতৃত্বে অন্য অভিযুক্তরা কমিটির বাকি নেতা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে জোর করে বিভিন্ন সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিচ্ছে ও নেয়ার চেষ্টা করছেন। যারা স্বাক্ষর দিতে রাজি হচ্ছে না তাদের হাত-পা ভেঙে গুঁড়ো করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ ৪ জন মিলে তার (সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল) অপূরণীয় ক্ষতি এবং আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।
পিরোজপুর সদর থানা সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ৪৬১/১৬ নং স্মারকে এমপি আউয়ালের ওই আবেদন সাধারণ ডায়েরি আকারে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে থানার এসআই আল মামুনকে।
এ সম্পর্কে সোমবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট এম এ হাকিম হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের সভাপতি সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি নিজেই দলের ভাবমুর্তি নষ্ট কারার জন্য যারপর নাই সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন।
জেলা কমিটির অন্যতম  সদস্য ও পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মালেক বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের জন সমর্থন হারিয়ে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে এমপি সাহেবের। তার অন্যায় দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে পিরোজপুরের সাধারণ মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে তিনি এসব উল্টা-পাল্টা কাজকর্ম করছেন। সাধারণ ডায়েরিতে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। আসল কথা হচ্ছে, এখন আর কেউ নেই তার সঙ্গে। এমনকি দলের নেতাকর্মীরাও সরে গেছে তার পাশ থেকে। সবকিছু হারিয়ে ফেলার ভয়ে তিনি এখন মিথ্যার বেসাতি করে নিজেকে টেকানোর চেষ্টা করছেন।’
সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য তৌহিদুল ইসলাম হিরু বলেন, জেলা সভাপতি সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল দলীয়ভাবে একঘরে হয়ে তিনি শুধু থানায় জিডি করেই ক্ষান্ত হননি নানাভাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের হেনস্তা করতে তৎপর রয়েছেন।

print