নূর মোহাম্মদ হৃদয় : পিরোজপুরে অবাধে চলছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ৬ (ক) ধারা অনুযায়ী আঠারো বছরের কম বয়সীদের কাছে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় বা তাদের দ্বারা এ জাতীয় দ্রব্য বিপণন বা বিতরণ কাজে নিয়োজিত করা নিষিদ্ধ।

কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে পিরোজপুরের প্রায় সব দোকানেই চলছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ের রমরমা ব্যবসা।

তবে বেশিরভাগ সময় অপ্রাপ্তবয়স্করা এসব দ্রব্য ক্রয়ের পর তা নিজেরাই পান করে বলে ধারণা করছে সমাজকর্মীরা।এছাড়া এসব ক্রয়ের অর্থের যোগান দিতে তারা নানা অনৈতিক কাজেও জড়াচ্ছে বলে ধারণা তাদের।

এরকমই এক অপ্রাপ্তবয়স্ককে দোকান থেকে সিগারেট কিনতে দেখে তার পিছু নিলে কিছুদুর গিয়ে তাকেই সেই সিগারেট খেতে দেখা যায়।

সিগারেট খাওয়ার কারণ সম্পর্কে এরকমই এক কিশোর ধুমপায়ীকে জিজ্ঞাসা করলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলে, বন্ধুদের খেতে দেখে তাদের সাথে মিশতে মিশতে নিজেও একসময় খাওয়া শুরু করি। কৌতুহল থেকেই মুলত সিগারেট খাওয়া শুরু করেছিলাম।

তবে আরও একাধিক কিশোর ধুমপায়ীকে কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, ‘জানি না’ বা ‘এমনি’ ছাড়া কোন স্পষ্ট কারণের ব্যাখ্যা তারা দেয়নি।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদেরও নেই এবিষয়ে কোন খেয়াল। ইচ্ছামত যার তার কাছেই এসব দ্রব্য বিক্রি করছে তারা।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক দোকানদার বলে, আমরা বসেছি ব্যবসা করতে। কাস্টমার যা চাবে আমার তা দেয়া দায়িত্ব। এখন একটা কিশোর ছেলে যদি এসে সিগারেট চায় তাকে তা দিয়ে দেই। এখন সে সেটা নিয়ে নিজে খাবে না অন্যকে দেবে সেটাতো আমার দেখার দরকার নাই।

আর কোন ব্যবসায়ীর সাথে এবিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা কথা বলতে রাজী হয় নি।

এবিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ছোটদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি না করার আইন আছে। তবে কিছু ব্যবসায়ী তা না মেনে বিক্রি করে।আমি বিষয়টি দেখছি। আমাকে যেসব দোকানে‍ ছোটদের কাছে এসব বিক্রি করে ‍তাদের তালিকা দিন। আমি ব্যবস্থা নিব।

পিরোজপুর সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ননী গোপাল রায় বলেন, ছোট বয়সেই তামাকজাত দ্রব্য খাওয়া শুরু করলে এগুলোর উপর আসক্তি ধরে যায়।আর এগুলো পান করলে ফুসফুসে ইনফেকশন হয়ে ব্রঙ্কাইটিস, ব্রঙ্কিওল, অ্যাজমা, এমনকি শেষে ফুসফুস ক্যান্সার হয়ে যায়।‍এছাড়া পাকস্থলিতে আলসার, রক্তবমি, ক্যান্সার ইত্যাদিসহ বুকেও নানা ব্যাধি হয়।

এবিষয়ে সমাজকর্মী খালিদ আবু বলেন, এব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটু কঠোর অবস্থান দরকার।মানুষ এখন দেখেও এড়িয়ে যাই বা দেখে না, এগুলো ঠিক না।অভিভাবকদের সচেতনতা আগে দরকার। তারা সচেতন না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাজার চেষ্টা করেও এগুলো ‍‌আটকাতে পারবে না।আর যে দোকানগুলো এধরনের কাজ করে তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ৬ (ক) এর উপধারা-২ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি এ কাজে উক্ত আইন ভঙ্গ করলে তাকে অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ডে এবং দ্বিতীয়বার এবং পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ করলে পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দন্ডের দ্বিগুণ হারে দন্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।

print