স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি : পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির সন্ধ্যানদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে সন্ধ্যার পশ্চিম তীরের দক্ষিন কৌরিখাড়া,পুর্ব সোহাগদল ,গনমান গ্রামের বসতঘর,বাগানবাড়ি,ফসলী জমিসহ বিস্তীর্ন জনপদ। নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে ছিন্ন মূলে পরিনত হয়েছে   অনেক পরিবার। গত তিন দিনে সন্ধ্যানদীর ভাঙ্গনে দক্ষিন কৌরিখাড়া গ্রামের মো. শহীদুল ইসলাম, মো. সেলিম হোসেন ও মো. আলমগীর হোসেনের বসতঘরসহ বাগানবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং ভাঙ্গন সংলগ্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ছোট বড় অনেক ফাটল । এর কয়েক মাস পুর্বে গনমান গ্রামের মো. মজিবুর রহমান, মো. আবুল কালাম ,মো. আসলাম হোসেন, মো. কবির হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, মো.ফজলুল হক, মো. আলমগীর হোসেন ও সোহেলের বসত ঘর সহ প্রায় ১০ একর বাগানবাড়ি সন্ধ্যার অতল গর্ভে তলিয়ে গেছে । বছর দেড়েক আগে পুর্ব সোহাগদল গ্রামের পল্লী সল্ট ইন্ডাষ্ট্রিজ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে দক্ষিন কৌরিখাড়া ও গনমান গ্রামটি প্রায় দুই তৃতীয়াংশ বিলীন হয়ে গেছে।  ভিটে মাটি হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে।  ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় অনেক পরিবার এখনও তাদের শেষ আশ্রয় স্থল বসত ভিটায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ।  অব্যাহত এ নদী ভাঙ্গনের ফলে উপজেলার,গনমান, দক্ষিন কৌরিখাড়া, পুর্ব সোহাগদল উত্তর কৌরিখাড়া, শান্তিহার,  ছারছীনা, মুনিনাগ, কুনিয়ারী,কামারকাঠি, ব্যাসকাঠি,জলাবাড়ী, সেহা্গংল এলাকার অনেকের বসত ভিটে ,হাজার হাজার একর ফসলী  জমি সহ বিস্তীর্ন জনপদ সর্বনাশা সন্ধ্যা গ্রাস করে নিয়েছে। এদিকে  কৌরিখাড়া বিসিক শিল্প নগরী, ইন্দুরহাট, মিয়ারহাট বন্দর, কৌরিখাড়া ডাকঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যানদীর ভাঙ্গনের হুমকির সম্মুখীন । বছর পাচেক পূর্বে উত্তর কৌরিখাড়া ও দক্ষিন কৌড়িখাড়া ভাঙ্গন কবলিত খেয়াঘাট সংলগ্ন কিছু এলাকায় ব্লক ও জিও টেক্স ব্যাগে বালু ভর্তি করে ফেলে  ঐ এলাকা সাময়িক ভাঙ্গন রোধ হলেও দক্ষিন দিকের ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীরা ভাঙ্গন রোধে  দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের নিকট জোর  দাবি জানিয়েছেন ।

print