স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদন্ডের রায় পূর্নবিবেচনার (রিভিউ) আর্জি জানিয়ে আনা আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে আগামী ১৪ মে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিলে ১৬ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে এ পর্যন্ত ২৮ টি মামলায় ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউ’র চুড়ান্ত ছয়টি রায়ের পর জামায়াতের প্রাক্তন আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রাক্তন দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের প্রাক্তন নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
আপিলের আরেক রায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা মৃত্যুদন্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। রায় রিভিউ চেয়ে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ ইতোমধ্যে আবেদন দাখিল করেছে যা আগামী ১৪ মে শুনানির জন্য ধার্য রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিলের ১৬টি মামলার আসামিরা হলেন- জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহান ও এটিএম আজহারুল ইসলাম, মোবারক হোসেন, জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার ও সাবেক এমপি পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার, চাপাইনবাবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটু, বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার ও খান আকরাম হোসেন, পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক তাহের, কিশোরগঞ্জের এডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জের মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও তার চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক এবং জামায়াত দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য, পরে বিএনপি ও জাপা নেতা সাখাওয়াৎ হোসেন।
১৬ টি আপিলের মধ্যে আব্দুল জব্বারকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া আমৃত্যু কারাদন্ডের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে। আর বাকী ১৫ টি আপিল মামলায় আসামিরা তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া দন্ডের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন। পর্যায়ক্রমে এসব আপিল মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্র।

print