স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরে সরকার দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালকে প্রধান অতিথি করায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান মে দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন করেছে জেলা সদরের সকল শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
সোমবার মহান মে দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে জেলা সদরে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি র‌্যালী ও র‌্যালী শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। তবে সেই অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি কোন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগ ও অংগ সংগঠনের কোন নেতা কর্মীকে। তাই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হাতেগোনা ক’য়েকজন লোক নিয়ে র‌্যালী ও আলোচনা সভা করে জেলা প্রশাসন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে পিরোজপুর-১ আসনের এমপি এ কে এম এ আউলায় মঞ্চে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি কোন বক্তব্য দেননি। সভা স্থালেও উপস্থিত ছিলেন না কোন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বরত সদস্যদের বসানো হয় দর্শকদের চেয়ারে।
এ সময় আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মো: খায়রুল আলম সেখের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো: ওয়ালিদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম সোহ্রাব হোসেন।
শ্রমিকদের অনুষ্ঠান বর্জনের বিষয়ে জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় এমপি বরবারই জেলার শ্রমিকদের নানানভাবে হয়রানি করে আসছেন এবং কয়েকদিন আগে বাসস্টান্ড এলাকায় একটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্থানীয় এমপির ইন্দোনে তাদের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: হান্নান সেখকে মামলার আসামী করা হয়েছে। এ কারণেই জেলা প্রশাসককে  আগেই জানানো হয়েছিল স্থানীয় এমপিকে প্রধান অতিথি করা হলে সে অনুষ্ঠান শ্রমিক ইনিয়নের নেতৃবৃন্দ তা বর্জণ করবে।
এরপরও জেলা প্রশাসন এমপি কে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করার কারণে তাদের শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে একত্বতা প্রকাশ করে জেলার অন্য সকল শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ অনুষ্ঠান বর্জণ করেছে ।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো: খায়রুল আলম সেখ জানান, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আগে জানিয়েছিলেন তারা আসবে কিন্তু কি কারণে তার উপস্থিত হয়নি তা তিনি জানেন না। তবে তিনি জানান এমপি অসুস্থতার করণে র‌্যালীতে অংশ গ্রহণ না করা এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি বক্তব্য দেননি।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক অন্যান্য নেতা-কর্মীরা বলেন, এমপি আউয়াল কিছু অনৈতিক, অন্যায় ও দলীয় স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় তারা অনেক আগে থেকেই তাকে বর্জন করেছে।

print