স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি: স্বরূপকাঠীতে প্রতিপক্ষকে ধমাতে অস্ত্র উচিয়ে ধাওয়া দিয়ে উল্টো এলাকায় প্রতিবাদসভা সাজিয়ে নিজেকে সাধুসন্নাসী হিসাবে জাহির করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউপি চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদারের বিরুদ্ধে। গত শনিবার(২৭ মে) দুপুরের দিকে প্রতিপক্ষ তাপসমজুমদার নিজ বাড়ী থেকে কুড়িয়ানা বাজার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। এসময়, তাপস মজুমদার চেয়ারম্যানের বাড়ী সংলগ্ন রাস্তা হয়ে বাজারের কাছাকাছি আসার সময় পথিমধ্যে চেয়ারম্যান শেখর অস্ত্র হাতে তার আশ্রিত সঙ্গীত আচার্য্য ও সন্তোষ সমদ্দারকে সাথে নিয়ে তাপস মজুমদারকে ধাওয়া করে। এসময়, তাপস মজুমদার  দৌড়ে কুড়িয়ানা বাজার দরজায় এসে পৌছে বাজারে অবস্থানরত নেছারাবাদ থানা পুলিশের গাড়ীর সামনে পরে। বাজারে উপস্থিত থানার এস,আই বাদল কৃষ্ণর কাছে চেয়ারম্যান শেখরের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ করেন। এঘটনায় বর্তমানে ইউনিয়নের ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার। চেয়ারম্যান শেখর জানান, তাপস মজুমদার এলাকায় সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত। তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে তিনি(চেয়ারম্যান) একজন বড় প্রতিবন্ধক। তাই তাকে সরাতে ঘটনার দিন তাপস মজুমদার অজ্ঞাত কয়েকজন লোক নিয়ে তাকে মারার জন্য তার বাড়ীতে আক্রমন করেছিল। বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। তাছাড়া, এলাকাবাসীকেও ব্যাপারটি জানানোর জন্য তার এই প্রতিবাদসভা বলে দাবী করেন চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার। গত রোববার বিকালের দিকে চেয়ারম্যান শেখর কুমার বাজারের আর্য্য সম্মিলনী বিদ্যালয় মাঠে তাপসের বিরুদ্ধে ওই প্রতিবাদসভা করেন।
তাপস মজুমদার অভিযোগে বলেন, তাদের ইউনিয়নে সর্বদা এমপি আউয়াল ও তারই ভাই মালেক বলয়ে আওয়মীলীগের দুটি গ্রুপে বিভক্ত। তাপস মজুমদারসহ ওই ইউনিয়নের বৃহৎ একটি অংশ মজিবুর রহমান মালেক মিয়ার অনুসারি রয়েছে। যে কারনে আওয়ামীলীগের অন্য বলয়ের অনুসারি চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকাদার সর্বদা তাদের উপর চড়াও থাকতেন। ওই দিন তারই(তাপসের) অনুসারি সঞ্জিব নামে একজনকে চেয়ারম্যানের সালা সন্তোস সমদ্দার বাজারে বসে সামনাসামনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পূনরায় ওই দিন দুপুরে তাপস নিজ বাড়ী থেকে কুড়িয়ানা বাজারে রওয়ানা করে। পথিমধ্যে চেয়ারম্যান শেখর হাতে অস্ত্র নিয়ে তার পালিত সঙ্গীত আচার্য্য ও তারই শালা সন্তোস সমদ্দার তাপসকে হত্যার উদ্দ্যেশে পিছন থেকে ধাওয়া করে। তাপস কোনরকম প্রানে বেঁচে ফিরে পুলিশকে ঘটনা জানান।
ঘটনার দিন ইউনিয়নের কুড়িয়ানা বাজারে উপস্থিত পুলিশের এস,আই বাদল কৃষ্ণ বলেন, ওই দিন তারা একটা কাজে গাড়ী নিয়ে কুড়িয়ানা বাজারে গিয়েছিল। এমন সময় তারা সংবাদে জানতে পারে চেয়ারম্যান শেখরের বাসায় তাপস নামে এক ব্যাক্তি হামলা করেছে। এমনি সময় হটাৎ বাজারের মধ্যে তাপস দৌড়ে এসে তাদের গাড়ীর সামনে পরে। চেয়ারম্যান হাতে অস্ত্র নিয়ে তাকে মারতে এসেছে বলে তাপস তাদের কাছে অভিযোগ করে। প্রকৃতপক্ষে চেয়ারম্যানের বাড়ীতে হামলা ও তাপসকে অস্ত্র হাতে নিয়ে মারতে আসা দুটোরই বাস্তবিকভাবে তারা(পুলিশ) কোন প্রমান পাইনি বলে জানান, এ সাব-ইন্সপেক্টর বাদল কৃষ্ণ।

print