ঢাকা: আজ অভিশপ্ত সেই নাগাসাকি দিবস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমাতে প্রথম পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের দুই দিন পর ৯ আগস্ট জাপানের অপর একটি শহর নাগাসাকিতে ফ্যাটম্যান নামের আরও একটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। যার তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব এখনো বিদ্যামন ওই দুই শহরে। ফলে হাজার হাজার শিশু বিকলঙ্গ হয়ে মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়।

ওইদিন জাপানের স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়। মূলত এই বোমার মাধ্যমেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। প্রাথমিকভাবে স্থীর করা হয় কোকুরা’তে ফেলা হবে দ্বিতীয় আণবিক বোমা। আণবিক বোমা ফ্যাটম্যান’কে বহনকারী বক্সকার বিমানটি কোকুরা’র উপর গিয়ে দেখতে পায় শহরটির উপর ভারী মেঘ জমে আছে। ফলে তাদের দ্বিতীয় লক্ষ্য নাগাসাকিতে বোমাটি ফেলতে হয়। তবে পরিকল্পিত স্থানে বোমাটি নিক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। ফ্যাটম্যান বিস্ফোরিত হয় একটি উপত্যাকার উপর। আগেরবারের মতো এবার অগ্নিঝড় হয়নি কিন্তু এতেই সাথে সাথে নিহত হন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।

ওই দিনই জাপানের সুপ্রিম ওয়ার ডিরেকশন কাউন্সিল জরুরি বৈঠকে বসে। ইতিমধ্যে রাশিয়াও জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এরপরেই তারা নাগাসাকির খবর পান। বৈঠকে জাপানের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে তীব্র মতানৈক্য দেখা দেয়। কেউ কেউ এখনো কয়েক লক্ষ সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও এক একটি শহর এভাবে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা ব্যক্ত করেন। রাজধানী টোকিওর পতন এবং গোটা জাপান বিদেশীদের দখলে চলে যাওয়ার ভয়ও ছিলো। শেষ পর্যন্ত তদানিন্তন জাপানি প্রধানমন্ত্রী কানতারো সুজুকি সম্রাটের উপর সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার ছেড়ে দেন। সম্রাট হিরোহিতো বলেন, তিনি এই দুর্ভোগের অবসান চান এবং অসহ্য কে সহ্য করবেন।

এর চার দিন পর কট্টোর পন্থী জাপানি সেনারা আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে ক্যু করার পরিকল্পনা করে। যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। ১৫ অগাষ্ট ১৯৪৫ সালে যখন সম্রাট হিরোহিতো রেডিওতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জেনারেল আনামি নিজের পেট কেটে আত্মহত্যা করেন। জেনারেল কোরেচিকা আনামি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইম্পেরিয়াল জাপানিজ আর্মি’র প্রধান ছিলেন।

তবে হিরোশিমা ও নাগাসাকির মানুষরা এখনো সেই ভয়াবহ রাতগুলোর কথা ভুলতে পারেনি, সেই কথা মনে পড়লে তারা ভয়ে কুকড়ে যায়।

print