স্টাফ রিপোর্টার ; পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সেখ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সাম্প্রদায়িক হানাহানি হয়না। ছিটেফোটা যে ঘটনাগুলো ঘটে তা মিমাংসাযোগ্য। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর এজন্য বর্তমান সরকার নানাবিধ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়িত হলে মানুষ সচেতন হবে। আর মানুষ সচেতন হলে হানাহানিও কমে যাবে।
সুরক্ষা, নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা (সুনাম) পিরোজপুর জেলা কমিটি আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার, আইনগত ভিত্তি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সোমবার বিকেল ৪ টায় শহরের দি গোপাল কৃষ্ণ টাউনক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সুনাম, পিরোজপুর জেলা কমিটির সভাপতি  গৌতম চৌধুরী। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  জেলা উদীচী সভাপতি এ্যাডভোকেট এম এ মান্নান, মোরশের্দ স্মৃতি শিশু নিকেতনের অধ্যক্ষ প্রতুল কুমার ব্রক্ষ্ম, ইত্তেফাক স্টাফ রিপোর্টার মনিরুজ্জামান নাসিম, জেলা শিল্পকলা একাডেমী সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী,  সুনাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদা আক্তার হেনা, হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক তুষার কান্তি মজুমদার  পৌর কাউন্সিলর সাদুল্লাহ লিটন প্রমুখ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের জন্য একই, যেটা তার জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য। মানুষ এ অধিকার ভোগ করবে এবং চর্চা করবে। তবে এ চর্চা অন্যের ক্ষতিসাধন ও প্রশান্তি বিনষ্টের কারণ হতে পারবে না। মানবাধিকার সর্বত্র এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এ অধিকার একই সাথে সহজাত ও আইনগত অধিকার। স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইন ও বিচার বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব হলো এসব অধিকার রক্ষনাবেক্ষণ করা। যদিও অধিকার বলতে প্রকৃতপক্ষে কি বোঝায় তা এখন পর্যন্ত একটি দর্শণগত বিতর্কের বিষয়। মানব ইতিহাসের দিকে তাকালে ,দেখা যায়, কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও সামাজিক অধিকার, পরিবার, সম্প্রদায়, ধর্ম, পেশাগত গ্রুপের মানুষ হিসেবে মানব অস্তিত্বের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে মানবাধিকার পাওয়ার যোগ্য। এ ধারনাটি সাম্প্রতিক হলেও বহুপূর্ব থেকেই প্রচলিত বিভিন্ন প্রথা এবং প্রধান ধর্মীয় অনুশাসনের মূলে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে।
সংখ্যালঘু ইস্যুতে ২০১৩ সালে গঠিত জাতিসংঘ ফোরাম প্রথম বারের মত ধর্মীয় সংখ্যালঘুর অধিকারের নিশ্চয়তায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই ফোরাম রাষ্ট্রকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সংগঠনসমূহের সাথে এবং বৃহত্তর সমাজের সাথে প্রতিকার বিষয়ে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি বিশেষের সকল ধরনের মানবাধিকার সুরক্ষায় মুক্ত আলোচনার পরামর্শ রেখেছে। একই সাথে কমিটি রাষ্ট্রসমূহকে মুক্ত আলোচনার সুযোগ সৃষ্টিতে কমিটি গঠন করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আলোচনা ও মত বিনিময়ের কৌশল নির্ধারন করে সহায়তা করার কথা পূর্ণব্যক্ত করেছে।
সুনাম কমিটির সহ-সভাপতি সাংবাদিক  এ কে আজাদের সঞ্চালনায় সভায় সুনাম এর কার্যক্রম বাস্তবায়ণকারী সংস্থা শারি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী রঞ্জন বকসী নুপু। সভার সার্বিক তত্তাবধায়নে ছিলেন পিরোজপুর সুনামের সমান্বায়ক খালিদ আবু।

print