বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা পরিদর্শন করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ান। তিনি বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ৪০ মিনিট সময় কাটিয়েছেন। এ সময় তিনি মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বর্ণনা শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে কান্না করেন তুরস্কের এই ফার্স্টলেডি।

কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুর জানান, তুরস্কের ফার্স্টলেডি রোহিঙ্গা বস্তিতে পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমিনি এরদোগানের কাছে নিজেদের দূর্দশার কথা বলতে গিয়ে রোহিঙ্গারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকে তার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে যান তুরস্কের ফার্স্টলেডি। এরপর মিয়ানমারের সরকারী বাহিনীর নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গা নারীদের কাছ থেকে নির্যাতনের বর্ণনা শুনেন। দুঃখ দুর্দশার সময়ে ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোয়ানকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিতা রোহিঙ্গারা। এ সময় উপস্থিত রোহিঙ্গাসহ উপস্থিদের চোখে পানি টলমল করছিল। আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় চারপাশে।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রায় নেয়া রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার এবং সব রকমের সহযোগিতা করবে তুরস্ক সরকার। একই সাথে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তুরস্কের ফার্স্ট লেডি রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশাপাশি স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নেও সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করবে বলে জানান।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি তুরস্কের একটি বিশেষ বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে সড়ক পথে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান তিনি। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেগলুত কাভাসোগলু, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার সঙ্গে রয়েছেন। দুপুর ১.৫০টায় তুরস্কের ফাস্ট লেডি এমিনি উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে পৌছাঁন। এসময় ক্যাম্পের দেশী-বিদেশী কর্মকতারা স্বাতগ জানান এমিনি এদোগানকে।

এর আগে ব্যাপক সহিংসতার মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশে আসেন এমিনি এরদোয়ান। সেখানে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের উপর মিয়ানমারে বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা শুনেন। এ সময় কুশল বিনিময় করেন ক্যাম্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৩টার দিকে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাকে স্বাগত জানান।এদিকে কক্সবাজার থেকে তুরস্কের ফার্স্টলেডি এমিনি এরদোয়ান এর উখিয়া-টেকনাফের যাতায়াত পথে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসন। একইভাবে তাঁর পরিদর্শন এলাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তুর্কি ফার্স্টলেডির আগমনকে স্বাগত জানিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক গুলোকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত রেখেছেন স্থানীয় প্রশাসন। দুপুর ২ টা ২৫ মিনিটে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে কুতুপালং ক্যাম্প ত্যাগ। এ সময় ক্যাম্প এলাকাসহ আশেপাশে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

print