ঢাকা: দেশ থেকে নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ দেয়া হচ্ছে বলে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে বাংলাদেশে আসা তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার(৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর পরে নিজের দল আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় একথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে একেকটা ঘটনা ঘটছে, আর মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয়ের আশায় ছুটে আসছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি তাদের সহযোগিতা করতে। সাথে সাথে আমরা মিয়ানমার সরকারকেও চাপ দিচ্ছি। তাদের দেশের মানুষ যারা আমাদের দেশে আছে; তাদের যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সেটাই আমরা চাই।’

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে রয়েছে। এদের ফেরত নিতে ঢাকার আহ্বানেও গা করছিল না মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এর মধ্যেই ২০১২ সালের পর গত বছর মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযানের মুখে পুনরায় বাংলাদেশমুখী হয় মুসলিম রোহিঙ্গারা। তবে নতুন করে শরণার্থী নিতে নারাজি বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া পাহারা বসায়।

গত বছর মিয়ানমারে ঐতিহাসিক পরিবর্তনে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় বসলে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের আশা দেখা দিলেও মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির ভূমিকায় আন্তর্জাতিক মহল হতাশ।

গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে সেনা ও পুলিশ চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেনা অভিযান শুরু হলে পুনরায় রোহিঙ্গা স্রোত শুরু হয় বাংলাদেশ সীমান্তমুখে। শুরুতে কড়াকড়ি করলেও এরই মধ্যে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে বলে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার হিসাব।

রাখাইনে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশ পানে নিয়মিত ছুটে আসছে রোহিঙ্গাদের স্রোত। রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মানতে মিয়ানমার সরকারের অনীহার প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা গণভবনের বৈঠকে বলেন, ‘এরা তাদেরই দেশের নাগরিক। তারা আজকে কেন অন্য দেশে রিফিউজি হয়ে থাকবে। কোনো দেশের মানুষ অন্য দেশে রিফিউজি হয়ে থাকা তো সে দেশের জন্য সম্মানজনক না। এটা মিয়ানমারকে উপলব্ধি করতে হবে।

‘যারা আমাদের দেশে চলে এসে আশ্রয় চাচ্ছে; তাদের নিরাপত্তা দেয়া উচিৎ, ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিৎ.. তাদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।’

মিয়ানমারে সংঘটিত ঘটনার জন্য বাংলাদেশের ভার বহনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই ৭৮ সাল থেকে রিফিউজি ঢুকছে। রেজিস্ট্রার যা আছে, তার থেকে আনরেজিস্ট্রার বেশি। মিয়ানমারে একেকটা ঘটনা ঘটে, সেখান থেকে লোক চলে আসে।’

এবারের পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মিয়ানমারের সমালোচনা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে মানবেতর অবস্থা হচ্ছে; এই নারী ও শিশুরা যে কষ্ট পাচ্ছে। দুধের শিশুরা মারা যাচ্ছে, নারীরা মারা যাচ্ছে। এটা শুনতেই কষ্ট লাগে। এটা সহ্য করা যায় না।’

print