ক্যান্সার বা কর্কটরোগ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোন চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না। বাস্তবিক অর্থে এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়। ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দাবি করেন ক্যান্সার আক্রান্ত দেহকোষকে শেষ করে ফেলার প্রযুক্তি এখন তাদের হাতের মুঠোয়।

বর্তমানে যে পদ্ধতিতে রোগীর দেহের ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলা হয়, সেটা সবসময় কার্যকরী হয় না। সিআইসিডি নামে এই নতুন পদ্ধতিতে একশ শতাংশ সাফল্য মিলবে মনে করছেন গবেষকরা। বিষয়টি নিয়ে আরো কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন তারা।

বর্তমানে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করতে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন এবং ইমিউনোথেরাপির মতো পদ্ধতি অবলম্বন করেন চিকিৎসকরা। এতে অ্যাপোপটোসিস পদ্ধতিতে কোষের মধ্যে কৃত্রিম উপায়ে প্রোটিন তৈরি করে আক্রান্ত কোষ মেরে ফেলা হয়। তবে অনেক সময়েই ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ভোল পাল্টে ফেলে প্রোটিনের আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যায়। নতুন পদ্ধতিতে কোনো আক্রান্ত কোষই রেহাই পাবে না। শুধু তাই নয়, কোষের অবাঞ্ছিত বিষাক্ত পদার্থের হাত থেকেও রেহাই মিলবে।

গবেষকদলের প্রধান স্টিফেন টেট বলেছেন, ‘‌একশ’ শতাংশ সাফল্যের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আমরা। আর কয়েকদিন এই গবেষণা চালাতে হবে। তারপরেই সাধারণ রোগীদের এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা সম্ভব হবে।

print