স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক  মো: শহিদ শেখ হত্যা মামলায়  সোহেল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে  যাবজ্জীবন কারাদ- ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদ-াদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর  জেলা ও দায়রা জজ মো: রফিকুল ইসলাম এ রায় দেন। এ সময় আসামীকে আলামত নষ্টের জন্য আরো তিন বছরের কারাদ- ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আসামী সোহেল হাওলাদার (৩৭) পিরোজপুর পৌর শহরের বড় খলিশাখালী গ্রামের মৃত খালেক হাওলাদারের ছেলে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী (পিপি) এ্যাডভোকট খান  মো: আলাউদ্দিন জানান, বাগেরহাট সদর উপজেলার খারদ্বার গ্রামের ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক মো. শহিদের সঙ্গে সোহেল হাওলাদারের ভাল সর্ম্পক ছিল। সোহেল বাগেরহাটের নোনাডাঙ্গা এলাকায় বসবাস করতেন। সোহেল ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট শহিদকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলে করে পিরোজপুরের বড় খলিশাখালি গ্রামে আসেন। এরপর দুপুর ১টার দিকে শহিদকে নিয়ে ডাব খাওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী ওদোনকাঠি গ্রামে বাগানবাড়িতে নিয়ে যান। এরপর সেখানে শহিদকে দায়ের পেছনের অংশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সোহেল।
পরে মরদেহ ডোবার মধ্যে ফেলে দেয়। ঘটনার পরদিন ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের মালিক লিটন শেখ শহিদকে খুঁজে না পেয়ে সোহেলের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে পিরোজপুরে আসেন। এরপর সোহেলের বাড়িতে গিয়ে সোহেলের মা সহ ওদোনকাঠি গ্রামের প্রতিবেশীদের কাছে খোঁজ নিয়ে বাগানবাড়িতে যান। সেখানে একটি ডোবার মধ্যে শহিদের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। এ ঘটনায় ২০১০ সালের ৩০ আগস্ট লিটন শেখ বাদী হয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ সোহেলকে গ্রেফতার করার পর সে হত্যার কথা স্বীকার করে।
২০১০ সালের ২২ অক্টোবর পিরোজপুর সদর থানার উপ পরিদর্শক বাদল কৃষ্ণ সোহেলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় দেন।

print