আন্তর্জাতিক ডেস্ক |  মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর প্রমাণ পেয়েছে চিকিৎসাকর্মীরা। জাতিসংঘের চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাত দিয়ে রোববার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৯ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে অনেকে গুলিবিদ্ধ, অগ্নিদগ্ধ কিংবা অন্যকোনোভাবে আহত হয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী চিকিৎসকদের কিছু বিবরণ রয়টার্স পর্যালোচনা করেছে। এসব চিকিৎসা প্রতিবেদনে নারীদের শারীরিক নির্যাতন থেকে শুরু করে গণধর্ষণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সেনাবাহিনীর দুর্নাম করার জন্যই বিদ্রোহীরা এসব মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে।

মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির মুখপাত্র জ হতে বলেছেন, ‘ধর্ষণের শিকার ওই সব নারীদের আমাদের কাছে আসা উচিৎ। আমরা তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেব। আমরা বিষয়টির তদন্ত করব এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের কক্সবাজারে আট স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে। তারা জানিয়েছে, গত আগস্টের শেষ থেকে এ পর্যন্ত ২৫ জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণের চিকিৎসা দিয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা রোগীদের সঙ্গে কী ঘটেছে সে বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি। তবে তারা এসব নারীদের বর্ণনায় এবং শারীরিক লক্ষণে সন্দেহাতীতভাবে বিষটির প্রমাণ পেয়েছেন। এসব নারী মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রসঙ্গত, স্পর্শকাতরতা বিবেচনায়, রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর হাতে ধর্ষণের বিষয়ে জাতিসংঘের চিকিৎসক ও সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীরা খুব কমই মন্তব্য করে।

ল্যাদাতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত একটি ক্লিনিকের চিকিৎসকরা রোগীদের পরিচয় গোপন করে রয়টার্সের সাংবাদিককে তিনটি কেস ফাইল দেখিয়েছে। এদের মধ্যে একটিতে দেখা গেছে, ২০ বছরের ওই নারীকে ১০ সেপ্টেম্বর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সাতদিন পর তিনি জানিয়েছেন, মিয়ানমারের এক সেনার হাতে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

হাতে লেখা নোটে বলা হয়েছে, ওই নারী জানিয়েছেন, ধর্ষণের আগে সেনারা তার চুল ধরে টেনে বন্দুক দিয়ে পিটিয়েছিল।

শারীরিক পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এদেরকে ধর্ষণ, প্রহার এবং সজ্ঞানে তাদের যৌনাঙ্গ কেটে ফেলার মতো ঘটনা ঘটেছে।

আইওএমের মেডিকেল অফিসার ডা. তাসনুবা নওরিন বলেছেন, ‘আমরা ত্বকে চিহ্ন পেয়েছি, যাতে সজোরে হামলা, অমানবিক হামলার বিষয়টি দেখা যাচ্ছে।’

এই চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, তিনি যৌনাঙ্গ ছিন্নকরণ, কামড়ের দাগ এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নারীর যৌনাঙ্গে আঘাতের মতো চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের যে ঢল নেমেছে বাংলাদেশে তাদের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচজন এমন নারীকে পেয়েছেন, যাদেরকে সম্প্রতি ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় যে শারীরিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে তার সঙ্গে রোগীর বিবরণের সংগতি রয়েছে।

print