ঢাকা: মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা শুরু হয় ১৯৫১ সালে। ব্রিটিশ টিভি উপস্থাপক এরিক মোর্লে হাত ধরেই শুরুটা। ২০০০ সালে এরিকের মৃত্যুর পর এ আয়োজনের দায়িত্ব কাধে তুলে নেন তাঁর স্ত্রী জুলিয়া মোর্লে।

প্রতি বছরই আয়োজিত হওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো সুন্দরী প্রতিযোগিতা মিস ওয়ার্ল্ড জন্ম দিয়েছে নানা বিতর্ক আর চমকে যাওয়া ঘটনার।

প্রথম আমেরিকান হিসেবে ১৯৭৩ সালের মিস ওয়ার্ল্ড মারজোরি ওয়ালেসকে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে খেতাব কেড়ে নেয়া হয়। আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষের মতে, তিনি দায়িত্বপালনকালে সাধারণ শর্তগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

পরের বছরই ১৯৭৪ সালের মিস ওয়ার্ল্ড বিজয়ী যুক্তরাজ্যের হেলেন মরগ্যানকে নিয়ে তৈরি হয় ব্যাপক বিতর্ক। মুকূট জেতার চার দিনের মাথায় জানা যায় যে, তিনি কুমারী মাতা ছিলেন। এ অভিযোগেই কেড়ে নিয়ে তার মুকূট, দেয়া হয় প্রথম রানার আপ হওয়া মিস দক্ষিন আফ্রিকাকে।

১৯৮০ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বিজয়ী জার্মানীর গ্যাব্রিয়েলা ব্রুম ১ দিন পরেই প্রেমিকের অসন্তুষ্টির কারণে নিজেই ফিরিয়ে দেন পদক।

ভারতের ব্যাংগালোরে ১৯৯৬ সালে প্রথম আয়োজিত হয় মিস ওয়ার্ল্ড। সে সময় সুইমস্যুট সেশন নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রতিযোগিতাটি। পরে সুইমস্যুট পর্বটি সিচিলিসে নিয়ে যাওয়া হয় আর নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা।

মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর পোশাক নিয়ে বিতর্ক ছিল শুরু থেকেই। তবে সেই বিতর্কের অবসান ঘটাতে ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মিস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দেশের পোশাক পরেই অংশ নিতে পারবে। এরপর থেকেই মুসলিম দেশগুলোর নারীদের এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

১৯৯৪ ও ৯৫ সালে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এর মূল আসরে অংশগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ দিন পর আবারও অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

নানা সমালোচনার পর শেষমেশ ১৮ নভেম্বর চীনের সানাইয়া শহরে বসতে চলা ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে কে যাবেন, তার জানার জন্য অপেক্ষা এখন দেশবাসীর।

print