স্টার সিনেপ্লেক্সে আগামীকাল ২২ অক্টোবর মুক্তি পেতে যাচ্ছে হলিউডের নতুন ছবি ‘জিওস্টর্ম’। ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্সের ব্যানারে ডিজাস্টার সায়েন্স ফিকশন-অ্যাকশনধর্মী এ ছবির পরিচালক ডিন ডেভলিন। অভিনয় করেছেন জেরার্ড বাটলার, জিম স্টারগেস, আলেক্সান্দ্রা মারিয়া লারা, অ্যাবি কর্নিশ, রবার্ট শিহান, অ্যান্ডি গার্সিয়াসহ আরো অনেকে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আজ বিশ্ববাসীকে নতুনভাবে ভাবিয়ে তুলছে। শিল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর অযাচিত ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা বেড়েছে আরও প্রকটভাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় মারাত্মকভাবে ভুগবে বাংলাদেশসহ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলো। অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় ভোগান্তির শিকার হবে এসব অঞ্চলের দুই বিলিয়ন মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে মিয়ামি বিচ, লুইজিয়ানা ও টেক্সাস উপকূল।

সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আর মাত্র ১০ মিটার বাড়লেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষ। অর্থের হিসেবে ক্ষয়ক্ষতি হবে প্রায় ২শ’ কোটি ডলার। তবে মূল ক্ষতিটা হবে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ২০১৪ সালে বায়ুমন্ডলে ক্ষতিকর গ্যাসের উপস্থিতি রের্কডমাত্রায় পৌঁছেছে।

সংস্থাটির মতে, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর দীর্ঘস্থায়ী গ্যাসগুলোর কারণে ১৯৯০ থেকে ২০১৪ সালে আবহাওয়ায় উষ্ণায়নের হার ৩৪ শতাংশ পরিমাণে বেড়েছে। আগামী দশকে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। সবমিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে সারাবিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ নিয়ে চলছে নানা গবেষণা, উদ্যোগ, কর্মসূচি। পিছিয়ে নেই হলিউডও। বিষয়টিকে আমলে নিয়ে তারা নির্মাণ করেছে একাধিক চলচ্চিত্র। যার সবশেষ সংযোজন ‘জিওস্টর্ম’।

এতে দেখা যাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ঙ্কর প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষার প্রচেষ্টায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার মিলে ‘ডাচ বয়’ নামক একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। জিও প্রকৌশল প্রযুক্তির মাধ্যমে আবর্তমান পৃথিবীর চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়, যা দুর্যোগ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করবে। কিন্তু দুই বছর সফলভাবে কাজ করার পর এটি ত্রুটিপূর্ণ চলাচল শুরু করে। দেখা দেয় মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা।

এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যায় ছবির গল্প। ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেটের ছবিটি নিয়ে এরইমধ্যে দর্শকদের কৌতুহল তৈরি হয়েছে। বিষয়ের কারণে গুরুত্ব দিচ্ছেন সমালোচকরাও। ট্রেলার প্রকাশের পর দর্শকদের সাড়া দেখে সাফল্যের আশাবাদী হয়ে উঠেছেন নির্মাতাও। এখন মুক্তির অপেক্ষা।

print