স্টাফ রিপোর্টার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন,  র‌্যাবের মতো অন্য বাহিনীগুলোকেও আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। যারা এখনও বিপদগামী আছেন, তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। তা না হলে তাদের নিয়তিতে কী আছে, তা আল্লাই ভালো জানেন। তিনি বলেন, ‘জলদস্যুদের কাছে যেসব অস্ত্র আছে, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ হলে জলদস্যুরা একজনও প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবে না। এর প্রমাণ আমরা ইতোপূর্বে অনেকবার দেখেছি। বিশ্ব পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় সুন্দরবনকে কেউ অশান্ত করতে পারবে না।’বুধবার পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়ামে সুন্দরবনের জলদস্যু মানজু বাহিনী ও মুজিব বাহিনীর ২০ সদস্যের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৮ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ তুলে  মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যে রকম বন্ধু প্রতিম দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম, ঠিক তেমনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গারাও আমাদের দেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মায়ের মমতা দেখিয়েছেন। এ কারণে আজকে তিনি মাদার অব হিউম্যানিটি উপাধি পেয়েছেন। ’অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর  আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। গত ১৫ মাসে ১২টি দস্যু বাহিনীর ১৩২ জন আত্মসমর্পণ করেছে। তারা ২৪৯টি  আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২ হাজার ৫৯২ রাউন্ড গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুরা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক লাখ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ২০ হাজার ও এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছে।’র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার ক্ষমতায়। এখানে কোনও দস্যুদের ঠাঁই নাই। কোনও গডফাদার ও কোনও গড মাদার তাদের আশ্রয় দিতে পারবে না।’র‌্যাব-৮ এর পরিচালক হাসান ইমন আল রাজীব বলেন, ‘র‌্যাবের অভিযানে জলদস্যুদের মনোবল ভেঙে যাবার কারণে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ২০১৬ সালের মে মাসে তারা আত্মসমর্পণের আবেদন জানায়। ইতোমধ্যে ১২টি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে।  এরই ধারাবাহিকতায় জলদস্যু বাহিনীর আজকের এই  আত্মসমর্পণ।’আত্মসমর্পণ করা জলদস্যু মানজু বাহিনীর প্রধান মানজুর  সরদার বলেন, ‘আমরা  আর কখনও অন্ধকার জীবনে পা দেবো না। পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে থাকতে চাই।’ যারা এখনও আত্মসমর্পণ করেননি তাদের তিনি আত্মসমর্পণ করার অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  অতিরিক্ত ডিআইজি মো: আকরাম হোসেন, পি জেলা প্রশাসক মো: খায়রুল আলম সেখ, পুলিশ সুপার মো: ওয়ালিদ হোসেন, পিরোজপুর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও  পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মো: হাবিবুর রহমান মালেক বলেন।
আত্মসমর্পণ করা ২০ জন হলেন মানজু বাহিনীর প্রধান মো. মানজু সরদার, তার সহযোগী জুলফিকার ইজারাদার, বাচ্চু মল্লিক,তৌহিদুর রহমান সেখ, রেজাউল ইসলাম, পলাশ খান,সুমায়ন ফকির, মো. জামরুল সেখ, মজিব ইজারাদার, হাওলাদার আলমগীর ও মো. হানিফ সেখ। অপর দিকে মজিদ বাহিনীর সদস্যরা হলো, দলের প্রধান মো. তাকবির কাগচী, মো. হাসান বিশ^াষ, আব্দুল মজিদ, ইউনুস সেখ, হাফিজুল ইসলাম,আফজাল খান,এসকেন খান,হাসান আলী ইজারাদার ও মোসা ইজারাদার।  এদের সকলের বাড়ি বাগেরহাট  ও সাতক্ষিরা জেলায় ।
এ নিয়ে এ পর্যন্ত ১০৬টি অভিযানে সর্বমোট ১২টি বাহিনীর ১৩২জন জলদস্যু র‌্যাবের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পন করেন ও ২৪৯টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১২ হাজার ৫শ’ ৯২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব।

print