ক্ষমতাসীন দলটির কর্মীরা বলছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের দ্বন্দ্ব এর মধ্যে দিয়ে নতুন মাত্রা পেল।

লালবাগের আজিমপুর রোডের পার্ল হারবার কমিউনিটি সেন্টারে বৃহস্পতিবার সকালে কামরাঙ্গীর চর, লালবাগ ও কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির আয়োজন করেন দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ।

আর মেয়রের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার আবু আহমেদ মান্নাফিকে ‘লাঞ্ছিত’ করার প্রতিবাদে তার সমর্থকরা পার্ল হারবারের সামনের সড়কে একই সময়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে এলাকাবাসী দেখতে পান, কমিউনিটি সেন্টারের সামনে জমে আছে ময়লার পাহাড়।

কমিউনিটি সেন্টারের নিরাপত্তাকর্মী মো. জসীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪-৫টি গাড়ি এসে ওই ময়লা ফেলে রেখে গেছে গেইটের সামনে।

খবর পেয়ে পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। পুরো আজিমপুর রোডে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠান আছে কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলায়। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি, এই সড়কেই আওয়ামী লীগের আরেকটি পক্ষের বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুরাদের সমর্থকরা সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে পার্ল হারবারে আসতে থাকেন। কিন্তু ফটকের সামনে ময়লার স্তূপ দেখে দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন তারা।

শাহে আলম মুরাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার জন্য সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি দিয়ে ময়লা ফেলে কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানকেই বাধা দেওয়া হল। ওরা এরকমই করছে। এখন কী করব ভাই।”

অন্যদিকে মেয়র খোকনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি বলেন, “ময়লার মালিক তো আর আমি না। অনেক সময় গাড়ির সঙ্কট থাকে… অনেক জায়গায় ময়লা জমে থাকে। হয়ত সরিয়ে নিয়ে যাবে। আসলে তারা বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করে।”

ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়ে সাঈদ খোকন ও মুরাদের দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্য হয় সম্প্রতি মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

সেদিন মহানগর দক্ষিণ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলামের অনুসারীরা মেয়র সমর্থক মন্নাফিকে টেনে মঞ্চ থেকে ফেলে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী আওয়ামী লীগ নেতারা জানান।

এর জের ধরে ১ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বর্ধিত সভায় মুরাদের সমর্থকদের সঙ্গে মান্নাফির অনুসারীদের ফের হাতাহাতি হয়।

সেই প্রসঙ্গ টেনে মান্নাফি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করেছে। উনারা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা, আমিও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা। এর প্রতিবাদে আমরা কর্মসূচি দিতেই পারি। তবে এ কর্মসূচিতে আমি যাচ্ছি না। নাগরিক সমাজসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা যাচ্ছেন।”

দুটি কর্মসূচি কীভাবে একইসঙ্গে অনুমতি পেল জানতে চাইলে পুলিশের উপ কমিশনার ইব্রাহীম খান বলেন, “শাহে আলম মুরাদের অনুষ্ঠান কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে। সেখানে অনুমতির প্রয়োজন নেই। আর দ্বিতীয়টি রাস্তায় হবে। সেজন্য আমাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এই এলাকায় কোনো রকম বিক্ষোভ করতে দেওয়া হবে না।”

print