স্টাফ রিপোর্টার : ‘ মার্কা দেখে নয়, লোক দেখে আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে হবে। লুটেরা, মন্দির ভাঙ্গাদের চিরতরে বয়কট করতে হবে। নির্যাতনের সময় কোন রাজনৈতিক নেতা বা পুলিশ কাউকেই আমাদের পাশে দেখতে পাইনা, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে এ বান টিন, কিছু খাবার নিয়ে ছুটে যান এবং করুনা দেখান। আগামী নির্বাচনের আগে আর যেন সংখ্যালঘু সম্প্রাদয়ের ওপর কোন নির্যাতনের ঘটনা না দেখি। তাহলে নির্বাচন নিয়ে আমাদের ভাবনা চিন্তা করতে হবে। শুক্রবার বিকেলে পিরোজপুর জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথা বলেছেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের এক শ্রেনীর মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের ছত্রছায়ায় এ দেশের সংখালঘুদের ঘরবাড়ী ও মন্দিরের যায়গা দখলের মহাউৎসব চলছে। এর থেকে বিরত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চান রানা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, আমরা ৫৪র আওয়ামী মুসলীমলীগ দেখতে চাইনা, আমরা চাই ৭১’র বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ দেখতে। তিনি জিজ্ঞাসা করে বলেন, ৫০ লক্ষ ভোটের জন্য হেফাজতকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, নাকি সাড়ে ১১% লোকের ভোটে নির্বাচিত হতে চান এ ব্যাপারে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আগামী সংসদ নির্বাচনে যুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যালঘূদের জন্য ৬০টি আসনের দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই ঢাকায় মহা সমাবেশ করে এ ব্যপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
শুক্রবার সকালে শহরের রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে পিরোজপুর জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেস্টা প্রবীন রাজনিতিবিদ এ্যাডভোকেট চন্ডি চরন পাল। জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক তুষার কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ক্যাপ্টেন (অবঃ) সচীন কর্মকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ,সাংগঠনিক সম্পাদক সুখেন্দু শেখর বৈদ্য, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদার, জেলা উদীচীর সভাপতি এম এ মান্নান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খান মো. আলাউদ্দিন, পিরোজপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শফিউল হক মিঠু, রেজাউল করিম মন্টু, ঝালকাঠী জেলার দুলাল সাহা, ইউপি চেয়ারম্যান আশিষ বড়াল প্রমুখ।
পরে শেষ বিকেলে ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে তুষার কান্তি মজুমদারকে সভাপতি, গৌতম চন্দ্র সাহাকে সাধারণ সম্পাদক, চন্দ্র শেখর হালদারকে সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিপঙ্কর মাতা মিন্টুকে কোষাধ্যক্ষ করে ১০১ সদস্যের জেলা কমিটি গঠন করা হয়।

print