কাউখালী প্রতিনিধি: পিরোজপুরের কাউখালীতে আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুই পক্ষে বুধবার দিনভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। দিনভর দুই পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটায় । এসময় বিবদমান দু পক্ষ লাঠি সোটা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় মারমুখি অবস্থান নিয়ে গোটা শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে শহরের চিরাপাড়া সেতু সংলগ্ন আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে নবগঠিত যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে শোডউন করার প্রস্তুতিকালে সাবেক যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ব্যানার পোস্টার টেনে নিয়ে সড়কের ওপর আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃস্টি হয়। এক পর্যায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, নবগঠিত যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমানের নেতৃত্বে নেতা কর্মীরা কাউখালীতে শোডউন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তা প্রতিহত করতে যুবলীগের সাবেক কমিটির সভাপতি অলোক কর্মকারের কর্মী সমর্থকরা শোডাউনের ব্যানার পোস্টার ছিনিয়ে নিয়ে আগুন দিয়ে ধরিয়ে দিলে যুবলীগের দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায় দুই পক্ষ মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চালায়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী যুবলীগের দুই পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শহরের ব্যবসায়ি ও জনসাধারণের মধ্যে আতংক বিরাজ করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষকে নির্বৃত্ত করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সংঘর্ষ এড়াতে শহরে অতিািরক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ নভেম্বর পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা যুবলীগের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। গত বুধবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক এই কমিটির অনুমোদন দেন। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি সূত্রে জানা যায়, বুধবার যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ এর যৌথ সাক্ষরে আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। ওই কমিটিতে মো. মতিউর রহমান হালিম তালুকদারকে আহ্বায়ক ও কাউখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মো.ইউনুস খান ও মো.আসাদুজ্জামান কে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৮ জনকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়। এ আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে নবগঠিত কমিটি বুধবার শহরে শোডাউনের চেষ্টা চালালে সাবেক কমিটির নেতা কর্মীদের তোপের মুখে পড়ে। সাবেক যুবলীগ সভাপতি অধ্যক্ষ অলোক কর্মকার বলেন, আহ্বায়ক কমিটি যেভাবে গঠন করা হয়েছে তা সংগঠন বিরোধি। এ কমিটি কাউখালীর যুবলীগ নেতা কর্মীরা মানবেনা। অবিলম্বে তা বাতিল করে কমিটি পূণর্গঠনের দাবি জানাই। এদিকে নবগঠিত যুবলীগের আহ্বায় মো. মতিউর রহমান হালিম বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেই নতন কমিটি হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা শোডাউনের আয়োজন করেছি। বিলুপ্ত কমিটির সমর্থকরা ব্যানার ফেস্টুনে আগুন দিয়ে লাঠিসোঠা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে তা ভন্ডুল করে।

print