তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিশ্বের ইসলামী দেশগুলোর জোটের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের বিশেষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় বুধবার এই আহ্বান আসে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর ফিলিস্তিনিদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ইস্তাম্বুলে সম্মেলনে মিলিত হন অর্ধ শতাধিক মুসলিম দেশের রাষ্ট্রনেতারা।

ওআইসির বর্তমান চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ানের ডাকা এই সম্মেলেনে এসে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রকে ধিক্কার জানান।

মাহমুদ আব্বাস বলেন, “জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী আছে এবং সবসময়ই তা থাকবে।”

রয়টার্স জানিয়েছে, সম্মেলন শেষে যে ‘ইস্তাম্বুল ঘোষণাপত্র’ সাংবাদিকদের দেওয়া হয়, তাতে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানানোর কথা বলা আছে।

ঘোষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে তার পরিবর্তিত অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “আমরা ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বেআইনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাই। কেননা এটা এই অঞ্চলে গোলযোগময় একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। আমরা এই ভুল সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানাই।”

বিবিসির সাংবাদিক মার্ক লোয়েন বলেছেন, ট্রাম্পের ঘোষণার পর ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ এবং বিশ্বজুড়ে নিন্দা মুসলিম বিশ্বের নেতাদের দৃশ্যত এই ধরনের কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য করেছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান মো. আবদুল হামিদও এই সম্মেলনে ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই বৈরী সিদ্ধান্তের পর ওআইসি চুপ করে বসে থাকতে পারে না।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসির বিশেষ সম্মেলনে মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসির বিশেষ সম্মেলনে মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা

তুর্কি প্রেসিডেন্টের ডাকে এই সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহ যোগ দিলেও সৌদি আরব ও মিসর রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবর্তে মন্ত্রীদের পাঠায়।

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের অন্যতম সদস্য তুরস্ক ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্বে এমন এক আগুন জ্বালাবে, যা শেষ হবে না।

মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি তিন ধর্মের মানুষের কাছেই পবিত্র স্থান জেরুজালেম নিয়ে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব চলছে যুগের পর যুগ। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল।

সম্মেলনে ভাষণে রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান দেখাচ্ছেন, কীভাবে ছোট হয়ে আসে ফিলিস্তিনের মানচিত্র

সম্মেলনে ভাষণে রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান দেখাচ্ছেন, কীভাবে ছোট হয়ে আসে ফিলিস্তিনের মানচিত্র

এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট চলছে, যা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা চালিয়ে আসছে।

ট্রাম্পের ঘোষণাকে সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষাবলম্বন হিসেবে দেখছেন মাহমুদ আব্বাস। তিনি সম্মেলনে ভাষণে বলেন, এরপর আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকার অধিকার নেই।

মাহমুদ আব্বাস ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায়

মাহমুদ আব্বাস ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায়

তাকে সমর্থন করেন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে থাকার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও।

তিনি সম্মেলনে বলেন, “পক্ষপাতদুষ্ট যুক্তরাষ্ট্রকে এখন থেকে আর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সেই পর্যায় শেষ হয়ে গেল।”

“আমাদের এখন আলোচনা করা দরকার, এখন কে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেবে,” বলেন এরদোয়ান।

ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য মনে করছে, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ।

ওআইসির এই বিশেষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইসরায়েলের স্বার্থই রক্ষা করতে চায়, ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবির প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই।”

ইসরায়েলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বললেন রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান

ইসরায়েলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বললেন রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ এরদোয়ান বলেন, “ইসরায়েল একটি দখলদার রাষ্ট্র, ইসরায়েল একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র।”

“আমি বিশ্বের সব রাষ্ট্রকে আহ্বান জানাই, আন্তর্জাতিক আইন মেনে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিন। আমাদের এক্ষেত্রে দেরি করার কোনো সুযোগ নেই,” বলেন তিনি।

print