ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি: পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার রাজপাশা গ্রামের চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় একটি খামারের ৫টি মহিষ মারা গেলে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খামার মালিক আবুল হাসেম অভিযোগ করে বলেন, ভান্ডারিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের কর্মরত ভেটেরেনারী কম্পাউন্ডার মো: জাকির হোসেন ওই মহিষের ভিটামিন ও কৃমি নাশক ঔষধ প্রয়োগের পর মহিষগুলো পালাক্রমে মারা যায় । এতে ওই কৃষকের প্রায় ২লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক এর প্রতিকার চেয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে মো: আবুল হাসেম জানান, গত ২০ বছর ধরে গো-মহিষের খামার গড়ে তোলেন। ওই খামারে তিনি ৬টি মহিষ প্রতিপালন করে আসছিলেন। মহিষ ৬টির শারীরিক উন্নতির জন্য ওই কৃষক স্থানীয় প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে শরণাপন্ন হন। ওই দপ্তরের ভেটেরেনারী কম্পাউন্ডার মোঃ জাকির হোসেন কৃষকের বাড়ীতে গিয়ে গত ২০দিন আগে ৫টি মহিষের চিকিৎসা দেন। এরপর থেকে মহিষ গুলোর শারীরিক অবনতি ঘটে। চিকিৎসার প্রথম দিন রাতে গোয়াল ঘরে একটি মহিষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এর তিনদিন পরে আরো একটি মহিষ মারা যায়। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আরো দুইটি মহিষ মারা যায়। সর্বশেষ শুক্রবার দিবাগত রাতে আরো একটি মহিষ গোয়ালে মারা য়ায়।আবুল হাসেম আরো জানান, প্রথম মহিষটি মৃত্যুর পর তিনি চিকিৎসকে অনুরোধ করলে আর কৃষকের বাড়ীতে যায় নি। এমনকি অন্য কোন চিকিৎসক পূর্ববর্তী চিকিৎকের ব্যবস্থা না পাওয়ায় অসুস্থ মহিষ গুলোকে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। এতে তার ২লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে আর তার গোয়ালে যে মহিষটি চিকিৎসা দেয়া হয়নি সেই মহিষটি সুস্থ আছে। এ বিষয় অভিযুক্ত চিকিৎসক ভান্ডারিয়া উপজেলা ভেটেরেনারী কম্পাউন্ডার মো. জাকির হোসেন জানান মহিষ গুলির ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মহিষ গুলি পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল। তাই ভিটামিন ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ঔষধ দেয়া হয়। ভান্ডারিয়া উপজেলা ভেটেরেনারী সার্জন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, কৃষকের ৫টি মহিষের মৃত্যুর কথা আমি শুনেছি। তবে ময়না তদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারন নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন আক্তার সুমি বলেন, ওই কৃষকের অভিযোগ পেয়েছি । বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

print