স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবন্ধী বান্ধব সরকার। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত কল্পে বহুমাত্রিক এবং নিবিড় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী বুধবার তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য বজলুল হক হারুনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই আইন দু’টির বিধিমালা-২০১৫ ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমাজের মূল¯্রােতধারায় সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে একটি করে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০১০ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এ যাবত ১২ হাজার ১০৯ জন অটিজমের শিকার শিশু ও ব্যক্তিকে বিনামূল্যে ম্যানুয়াল ও ইনস্ট্রুমেন্টাল থেরাপি সার্ভিস প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৩২টি ভ্রাম্যমান থেরাপি ভ্যানের মাধ্যমে গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনামূল্যে নিবন্ধিত থেরাপিউটিক সেবা গ্রহিতার সংখ্যা ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫ জন এবং প্রদত্ত সেবা সংখ্যা ৫ লাখ ২০ হাজার ১৮৩টি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে ২০১১ সালে একটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম চালু করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকায় ৪টি, ৬টি বিভাগীয় শহরে ৬টি ও গাইবান্ধা জেলায় ১টিসহ মোট ১১টি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৬২টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল চালু করা হয়েছে। ওই স্কুলে বিএসএড ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কেয়ার-গিভারের সমন্বয়ে স্কুলগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ওই স্কুলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৮৫৩ জন।
শেখ হাসিনা বলেন, এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমেও গত ৮ বছরে দেশের অটিস্টিক প্রতিবন্ধী শিশুদের সার্বিকতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইনস্টিটিউট ফর পেডিয়াট্রিক নিউরো-ডিজঅর্ডার এন্ড অটিজম- ইপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অটিজম ও ¯œায়ু বিকাশ জনিত সমস্যা বিষয়ক জাতীয় পর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি ও জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ফাস্ট ট্রাক সার্ভিস ও মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রমে অটিজম বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ‘অটিজম ও ¯œায়ু-বিকাশজনিত সমস্যা বিষয়ক সেল গঠন করা হয়েছে। জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। অটিজম ও ¯œায়ু বিকাশজনিত সমস্যা বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১১ সালে ঢাকায় অটিজম ও এনডিডি বিষয়ক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং গত বছর এপ্রিলে ভুটানের থিম্পুতে দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সম্মেলনের মূল উদ্যোক্তা ছিল বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

print