স্টাফ রিপোর্টার : দেশের দক্ষিনাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র থেকে গত বছরের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ হাজার ২শত ৭৭ জন প্রতিবন্ধী সেবা গ্রহণ করেছেন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৩৭ সহস্রাধিক নার্রী-পুরুষ-শিশুকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য রোগীরা সেবা গ্রহণ করছেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশ পরিচালনার শপথ নিয়ে ৬ মাসের মধ্যে দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপী ও অন্যান্য চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে দেশের ৫টি জেলায় পরীক্ষামূলক ভাবে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চালু করে শেখ হাসিনার সরকার। এসব কেন্দ্রের সাফল্যের ভিত্তিতে ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছর পর্যন্ত পিরোজপুর সহ ৬৪টি জেলা সদর ও উপজেলা মিলিয়ে ৭৩ টি এবং ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে পিরোজপুরের প্রত্যন্ত উপজেলা মঠবাড়িয়াসহ ৩০ টি নিয়ে এ পর্যন্ত ১ শত ৩ টি সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়।
প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে স্থাপিত পিরোজপুরের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে যে সব সেবা প্রদান করা হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রতিবন্ধীর ধরন নির্ণয় করে ফিজিওথেরাপী, অকুপেশনাল থেরাপী, পুনর্বাসন, শ্রবণ, দৃষ্টি ও ভাষা শিক্ষন, অটিজম বিষয়ক সেবা, পক্ষাঘাত গ্রস্থদের সেবা, কাউন্সেলিং, সহায়ক উপকরণ বিতরণ এবং সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম। প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র পিরোজপুর থেকে স্ট্রোক-প্যারালাইসিস, ফ্রোজেন সোল্ডার, বাত-ব্যাথা, কোমর, মাজা, ঘাড়, মেরুদন্ডে বা হাঁটুতে যন্ত্রনার সেবা, স্পন্ডালাইটিস, আর্থাইটিস, অস্টিও, রিমাটয়েড, জিবিএস, স্পোর্টস ও আঘাত জনিত সমস্যা, এনকাইলোজিং স্পন্ডলাইটিস এবং সেরিব্রাল পলসি প্রতিবন্ধীদের সেবা প্রদান। পিরোজপুর শহরের কবি আহসান হাবিব সড়কের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি সু-সজ্জিত প্রতিবন্ধী কর্ণার এবং টয়লাইব্রেরী স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রতিবন্ধী কর্ণার ও টয় লাইব্রেরীটি শিশুদের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।প্রতিবন্ধী শিশু পুত্রকে নিয়ে সেবা নিতে আসা স্থানীয় একটি মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক ঈশ্বরচন্দ্র দাস জানান, এই সেবা কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় আমি সহ অনেক প্রতিবন্ধীর অভিভাবকের অর্থ ও কষ্টের লাঘব হয়েছে।পিরোজপুরের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা প্রিয়ংবদা ভট্রাচার্য্য জানান, এ কেন্দ্র থেকে ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৩৬২ জনকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। নিবন্ধন করা হয়েছে ২ হাজার ৮শত ২৪জন রোগীকে। এছাড়া বিনামূল্যে সেবার পাশাপাশি এ পর্যন্ত ১শত ৮৩ টি হুইল চেয়ার, ৫ টি ট্রাইসাইকেল, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য সাদাছড়ি, শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য হিয়ারিং এইড এবং স্ক্রাচ বিতরণ করা হয়েছে। তার কেন্দ্রে কনসালটেন্ট ফিজিওথেরাপিস্ট, ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট, থেরাপী সহকারী সহ অন্যান্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দারা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। মঠবাড়িয়ার প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন মেরাজ জানান এ কেন্দ্রটি চালু হবার পর থেকে গত ৩০ মাসে তার কেন্দ্র থেকে ৭ হাজার ৪শত ৭৭ সহ¯্রাধিক প্রতিবন্ধীসহ অন্যদের সেবা প্রদান করা হয়েছে। তবে সব ধরনের সেবার ইনস্ট্রুমেন্ট এখনো এ কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়নি।

print