হাসিবুল হাসান/তামিম সরদার :
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার সন্তান আমেরিকা প্রবাসি আবুল বাশার খান (৫৮) নিউ হ্যাম্পশায়ারে রাজনীতিক অঙ্গনে এক পরিচিত মুখ। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশী যিনি আমেরিকার নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়ে নির্বাচনে স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচিত হয়েছেন। জীবনের টানা ৪০ বছর প্রবাস জীবনে থেকে ২০০৬ সাল থেকে কয়েকদফা নির্বাচনে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ভোটে জিতে আসছেন। তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ারের সি ব্রুকে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করেছেন। তিনি সেখানে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা, জননিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নয়নে একজন বাংলাদেশী হিসেবে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া শহরেরর সম্ভান্ত খান বাড়ির সন্তান আবুল বাশার খান রবিবার তার তিন প্রবাসি বন্ধুদের নিয়ে নিজ শহর ভান্ডারিয়ায় আসেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী আবুল বাশার খানকে দেখতে স্থানীয় মানুষ ভীর করেন। এসময় তিনি এলাকাবাসির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি তার তিন প্রবাসি বন্ধু কুষ্টিয়ার শফিক খান, নোয়াখালীর সেলিম খান ও চট্রগ্রামের আবু কামাল আজাদকে নিয়ে সোমবার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার রাধানগর গ্রামের শিক্ষাপল্লী ও মিনিস্টার বাড়ি সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। ৪০ বছর প্রবাস জীবনের পর নিজ ভিটেমাটিতে ঘুরতে আসর খবরটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হয়। এরপর তিনি পিরোজপুর শহরের পালপাড়াস্থ তার শ্বশুরবাড়ীতে যান। সেখানে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
গর্বিত বাঙালী আবুল খান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জণ করেন। আমরিকায় বসবাসরত দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক হিসেবে আবুল খানই প্রথম ব্যাক্তি, যিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জণ করেন।
ভান্ডারিয়া উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী খান লজ বাড়ির প্রয়াত মাহাবুব উদ্দিন খান কাঞ্চন ও প্রয়াত শাহানারা বেগমের বড় ছেলে আবুল বাশার। প্রয়াত বাবা মাহাবুব উদ্দিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী সচিব ছিলেন।
আবুল বাশার খান জানান, ১৯৬০ সালের ১ মার্চ তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁরা দুই ভাই দুই বোন। পরিবারের সকলেই আমেরিকা প্রবাসী। তবে ছোট বোন রোজী খান অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি। ভাই ওবোনদের মধ্যে তিনি সবার বড়। আবুল খান ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারী আমেরিকায় যান । এর আগে ঢাকার মুসলিম গভঃ হাইস্কুল থেকে ১৯৭৬ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৭৮ সালে নটরডেম কলেজ হতে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হয়ে তিনবছর পড়ার পড় স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকা গিয়ে আর ফেরেননি। আমেরিকা বসবাসরত অবস্থায় ১৯৮৪ সালে নিজ জেলা পিরোজপুরের মরজিয়া হুদা খানকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির ঘরে ছেলে আতিক খান ও মেয়ে নূসরাত জাহানও আমেরিকা প্রবাসি। আবুলখান আমেরিকা যাবার পর নিউইয়র্ক শহরে প্রথমে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন। ২০০০ সালে তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার সিটির সি ব্রুক শহরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্রয় করেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ছাড়া সেখানে একটি গ্যাস স্টেশনও ছিল। ২০০৬ সালে তিনি সি ব্রুকে প্লানিং বোর্ডের সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচনে দাড়ান । চার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীকে হারিয়ে সেই তাঁর প্রথম নির্বাচনে জেতা। এরপর ২০০৬ সালে ওই শহরের বাজেট কমিটির সদস্য পদে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে সি ব্রুক বোর্ড অব সিলেক্টম্যান পদে নির্বাচনে দাড়িয়ে তৃতীয় দফায় নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ২০১১ সালে সি ব্রুকে তিনবছর মেয়াদে ওই পদে পূনরায় তিনি নির্বাচিত হয়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টসহ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। ২০১২ সালের ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিউহ্যাম্পশায়ারে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এ পদে তিনিই একমাত্র বাঙালী যিনি প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জণ করেন। তিনি রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়েই এ নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি ওই শহরের বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও এনার্জি বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০১৪ সালেও তিনি ওই পদে বিপুলভোটে জয়লাভ করে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে ৫জন আমেরিকান প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুলভোটে নিউহ্যাম্পশায়ারে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি ওই পদে থেকে সেখানে সকল উন্নয়নে বাংলাদেশী হিসেবে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।

print